সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সেবায় আশাব্যঞ্জক সাফল্য দেখা দিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে হাসপাতালটিতে সর্বমোট ৭৪টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এক মাসে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যক স্বাভাবিক প্রসবের রেকর্ড।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসব ওয়ার্ডে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন পাঁচজন মিডওয়াইফ—সিনিয়র মিডওয়াইফ শিউলি বেগম, মিডওয়াইফ রিমা বেগম, রনি আক্তার, তাসলিমা আক্তার ও ছাদিয়া আক্তার। তাঁদের আন্তরিকতা, দক্ষতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় নিয়মিতভাবে প্রসূতিদের স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হচ্ছে। চলতি অক্টোবর মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত আরও ১১টি স্বাভাবিক প্রসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
দায়িত্বে থাকা মিডওয়াইফ রনি আক্তার বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করার চেষ্টা করি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল হই। প্রসূতির শারীরিক অবস্থা জটিল না হলে দ্রুত ও নিরাপদভাবে প্রসব করানো সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীর মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। এতে প্রসূতি ও গর্ভস্থ সন্তান উভয়েরই মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং পরবর্তীতে প্রসব জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই প্রসবের সময় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।”
সিনিয়র মিডওয়াইফ শিউলি বেগম জানান, শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য কোনো ধরনের ফি দিতে হয় না। প্রসবকালীন প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধ হাসপাতাল থেকেই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। তবে টিস্যু, ডায়াপারসহ সরকারি বরাদ্দের বাইরে থাকা কিছু সামগ্রী রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
তিনি জানান, প্রসব সেবার পাশাপাশি গর্ভকালীন অ্যান্টেনাটাল চেকআপ (এএনসি), প্রসব-পরবর্তী পোস্টনেটাল চেকআপ (পিএনসি), ভায়া পরীক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা পরামর্শ ও সেবা এবং নবজাতকের যত্ন দেওয়া হয়। পাশাপাশি মায়েদের কীভাবে যত্ন নিতে হবে, সে বিষয়েও পরামর্শ ও কাউন্সেলিং করা হয়।
শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসব সেবা নিতে আসা উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের বাদুল্লাপুর গ্রামের জুলফা বেগম বলেন, “সেপ্টেম্বর মাসে আমার একটি ছেলে শিশু নরমাল ডেলিভারিতে হয়েছে। আমি তাঁদের ব্যবহারে খুবই খুশি। আমার কোনো টাকা লাগেনি। আমি আমার গ্রামের অন্যদেরও হাসপাতালে প্রসব সেবা নিতে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।”
শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসান বলেন, “আমাদের হাসপাতালে এই সেবা চলমান রয়েছে। হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্স সংশ্লিষ্ট মিডওয়াইফদের এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি সেবার পাশাপাশি এসব মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ মাতৃসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।