মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়ে চলছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপজেলার ৪টি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, ৩টি মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ও সুপার এবং ১২টি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে প্রায় আড়াই বছর ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদও শূন্য রয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ দৈনন্দিন কাজে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বদলি হওয়ার পর প্রায় আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও ওই পদে নতুন কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলার চারটি কলেজে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী অধ্যক্ষ ছাড়াই চলছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজে গত নয় মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন কলেজের অধ্যাপক এ কে এম শাহজালাল।
পৌর শহরের ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজে প্রায় আড়াই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক সুজাতা সরকার।
লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজে প্রায় এক যুগ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আতাউর রহমান চন্দন। গত ৯ এপ্রিল তিনি অবসরে যাওয়ার পর বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন কলেজের অধ্যাপক নজমুল হোসেন।
এ ছাড়া ভাটেরা ডিগ্রি কলেজে প্রায় আড়াই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী অধ্যাপক মো. সলিম উদ্দিন।
কুলাউড়ার ১২টি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় ও স্কুল অ্যান্ড কলেজেও দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—
বরমচাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফেরদৌসী সুলতানা, ভূকশিমইল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নুরুল ইসলাম, উত্তর কুলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আনিসুর রহমান, জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে আব্দুস সবুর, আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে শশাঙ্ক শেখর গৌস্বামী, শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শতদল দে, শাহ সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে তাজুল ইসলাম, রাউৎগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজে মো. জাকারিয়া, হাজীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সুমন্ত গোপাল দত্ত, তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে সাইফুল ইসলাম, নবীগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বানু রাম বিশ্বাস এবং লংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে আব্দুল খালিক।
উপজেলার তিনটি মাদ্রাসায়ও দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়ে কার্যক্রম চলছে।
হিংগাজিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করছেন মুফতি গোলাম সরওয়ার। মনসুর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মো. ওবাইদুল্লাহ। আর বরমচাল হযরত খন্দকার (র.) দাখিল মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন মাওলানা লুৎফুর রহমান।
দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থায়ী প্রধান না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ভারপ্রাপ্তের ভারে’ অনেকটা নুয়ে পড়েছে। দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী প্রধান নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা সুলতানা নাসরীন বলেন, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়ে কার্যক্রম চলছে, সেখানে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সরকার লোকবল দিলে এনটিআরসির মাধ্যমে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। যেসব এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদ শূন্য রয়েছে, সেসব পদের চাহিদা চেয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে।