সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মাদক, সীমান্ত চোরাচালান ও মহাসড়কে অবৈধ ট্রাক পার্কিং বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ, বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতি এবং কোম্পানীগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে অবৈধভাবে ট্রাক পার্কিং বন্ধে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও সক্রিয়ভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। পাশাপাশি মহাসড়কে যত্রতত্র ট্রাক পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্ট যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বক্তব্য দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা পলাশ তালুকদার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা ইয়াসমীন মুক্তা, কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই সমীরন চন্দ্র দাস, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও তেলিখাল ইউনিয়নের প্রশাসক মো. আব্দুস শাকুর, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডিজিএম প্রকৌশলী মো. আশিকুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা টিটু কুমার দে এবং কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মঈন উদ্দিন মিলন।
এ ছাড়া উত্তর রণিখাই ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার ফয়জুর রহমান, পূর্ব ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম, ইসাকলস ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান সাজু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মিয়া, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম হাসান, কালাসাদক বিওপির নায়েক সুবেদার আলী আসগর, ফায়ার সার্ভিসের নব কুমার সিংহ, মৎস্য কর্মকর্তা শিবলী আতিকা তিন্নীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সংশ্লিষ্টরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে শুধু অভিযান নয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। সীমান্ত চোরাচালান, মাদক ও মহাসড়কে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।