সাচনা-সুনামগঞ্জ সড়কের প্রায় ১৯ কিলোমিটার জুড়ে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে সড়কের ওপর ধান মাড়াই ও ধান-খড় শুকানোর কাজ চলছে। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শেরমস্তপুর, নিয়ামতপুর ও ইসলামগঞ্জ ব্রিজসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধান মাড়াই মেশিন বসিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কোথাও সড়কের একপাশ, আবার কোথাও দুই পাশজুড়ে ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। ফলে ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সিএনজি চালক মন্তোষ সরকার জানান, সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে ধান শুকানোর কারণে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে ভেজা খড়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ট্রাক চালক আবু সুফিয়ান বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে দায় পড়ে চালকদের ওপর। কিন্তু অবৈধভাবে সড়ক দখল করে ধান শুকানোর বিষয়টি কেউ দেখছে না। এতে আমাদের গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে, গতি কমাতে হয়, তেলও বেশি লাগে।
মোটরসাইকেল চালকরাও একই অভিযোগ করেন। তাদের মতে, সড়কের অর্ধেক অংশজুড়ে ধান শুকানোর ফলে প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। অনেক সময় ধান নাড়ানোর সময় মানুষ হঠাৎ গাড়ির সামনে চলে আসে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। সম্প্রতি এক মোটরসাইকেল চালক খড়ের ওপর চাকা পিছলে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
অন্যদিকে কৃষকরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে খলায় ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়েই তারা সড়ক ব্যবহার করছেন। শেরমস্তপুর ব্রিজে ধান শুকাতে থাকা এক নারী বলেন, বাড়িতে জায়গা কম, বৃষ্টিতে মাটি ভিজা—তাই দ্রুত শুকানোর জন্য ব্রিজে ধান এনেছি। কলায়া এলাকার কৃষক সামসু মিয়া বলেন, প্রতিদিন বৃষ্টিতে খলা ভিজে থাকে। ধান নষ্ট হওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে রাস্তায় শুকাতে হচ্ছে। জানি এতে যানবাহনের সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু আমাদেরও উপায় নেই।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আশরাফুল হামিদ বলেন, সড়কে ধান শুকানো ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সড়কে ধান শুকানো বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।