মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আদমপুর সড়কের পাশ থেকে ইউক্যালিপটাস, জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১৪টি বড় গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দিবাগত রাতে সড়কের ঘোরামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গাছগুলো কেটে খণ্ড খণ্ড করে গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। চুরি হওয়া গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আদমপুর সড়কের ঘোরামারা এলাকায় ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৪টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। গাছের গোড়াগুলো পড়ে আছে সড়কের পাশে। স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে দ্রুত গাছগুলো কেটে গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজকান্দি বনরেঞ্জ কার্যালয় ও সড়কের চেকপোস্টের কাছাকাছি এলাকায় এতগুলো গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলের কাছেই রাজকান্দি বনরেঞ্জ কার্যালয় ও সড়কে চেকপোস্ট রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের টহলও থাকে। তাঁদের মতে, ১৪টি বড় গাছ কাটতে ও গাড়িতে তুলে সরিয়ে নিতে অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগার কথা। এরপরও কীভাবে গাছগুলো নিয়ে যাওয়া হলো, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। এভাবে চলতে থাকলে সংরক্ষিত বন ও সামাজিক বনের গাছপালাও নিরাপদ থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, একসঙ্গে এতগুলো গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া কোনো বড় চক্রের কাজ হতে পারে। খবর পাওয়ার পর বন বিভাগ, থানা-পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্ধীপ তালুকদার বলেন, গাছ চুরির বিষয়টি তিনি সময়মতো অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় তিনি কর্মস্থলে ফেরার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।