সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের ই-টেন্ডার বাতিল করে নিম্নমানের পোনা মাছ সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আল আমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ই-টেন্ডারে অংশ নেওয়া কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া অভিযোগে ঠিকাদাররা দাবি করেন, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের জন্য ই-টেন্ডার আহ্বান করা হলে তারা নিয়ম অনুযায়ী এতে অংশ নেন। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সুস্পষ্ট ও আইনানুগ কারণ ছাড়াই ই-টেন্ডারটি বাতিল করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কোনো কমিটি গঠন না করেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আল আমিনের উদ্যোগে পোনা মাছ সংগ্রহ ও সরবরাহ করে অবমুক্ত করা হয়েছে। সরবরাহ করা পোনার প্রজাতি, আকার, মান ও পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, নিম্নমানের পোনা সরবরাহ করা হয়ে থাকলে এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের উদ্দেশ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অভিযোগকারীরা ই-টেন্ডার বাতিলের কারণ ও প্রক্রিয়া তদন্ত, পোনা মাছ কোথা থেকে এবং কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে তা যাচাই, সরবরাহ করা পোনার মান ও পরিমাণ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচার ও ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত পোনার বিল পরিশোধ স্থগিত রাখার আবেদন করেছেন তারা।
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ফাতেমা কনস্ট্রাকশন, জিহাদ অ্যান্ড রিফাত কনস্ট্রাকশন, ভাই ভাই মেশিনারিজ ও নাফিজ আহমদ এন্টারপ্রাইজ।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আল আমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যজীবীও মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।