সুনামগঞ্জ শহরে কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন মো. এমদাদুল হক শাহজাহান। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের প্রিয়াঙ্গণ মার্কেটের সামনে সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত শাহজাহানের শ্যালক জুনায়েদ আহমেদ বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন—পৌর শহরের পূর্ব সুলতানপুরের সৈয়দ আলীর ছেলে জুনাব আলী (৫৫), তাঁর ছেলে শ্রাবণ (২১), হাছননগরের মুহিবুর রহমানের ছেলে সায়মন (২০) এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দা বুরহান উদ্দিনের ছেলে হিমেল। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শাহজাহানের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে এহসানুল হক কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি থানায় জানানোর পর মঙ্গলবার বিকেলে এহসানুল হক হাছননগর ময়নার পয়েন্টে তাঁর খালার বাসা থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রিয়াঙ্গণ মার্কেটের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা এহসানুল হককে ঘিরে ধরেন এবং থানায় কেন অভিযোগ করা হয়েছে, তার কৈফিয়ত চান। খবর পেয়ে তাঁর বাবা শাহজাহান দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে আটকে রাখার কারণ জানতে চান।
এ সময় অভিযুক্তরা রড, হেক্সো ব্লেডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শাহজাহানের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে সড়কে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রতন শেখ বলেন, “এ ঘটনায় রাতেই মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।”