সুনামগঞ্জের ছাতকে অননুমোদিত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রবিহীন ক্ষুদ্র চুনশিল্প কারখানাগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের প্রতিনিধি, চুন ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ছাতকের চুন শিল্প প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। একসময় ছাতকের চুন দেশের বিভিন্ন কলকারখানায় সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হতো। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের সঙ্গে বর্তমানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবিকা জড়িত।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ছাতকে ৫২টি ক্ষুদ্র চুন উৎপাদন কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান জড়িত। ফলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবিকা বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বক্তারা জানান, অতীতে বন-খাগড়া ও লাকড়ি ব্যবহার করে চুন পোড়ানো হতো। পরবর্তী সময়ে কিছু চুন কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলেও গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এতে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পরিবেশ ও জ্বালানি কাঠ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা। কর্মকর্তারা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে চুন শিল্পকে টিকিয়ে রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তারা।
পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম, ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান ও বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা কে বি এম ফেরদৌস সভায় বক্তব্য দেন।
চুন ব্যবসায়ীদের পক্ষে ছাতক পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনু, সাবেক পৌর কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেন, ক্ষুদ্র চুন শিল্প সমিতির সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর হাজী ছালেক মিয়া, চুন ব্যবসায়ী লিজন তালুকদার, আশরাফুল হক খেলন ও সাজ্জাদুর রহমানসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা পরিবেশের ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্সসহ সরকারি সব নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে আগ্রহী। এ জন্য তারা প্রশাসন, বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সহ-সভাপতি খালেদ মিয়া, অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি সাকির আমিনসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শাহ আলম, আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সামছু মিয়া, চুন ব্যবসায়ী মমিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান জাবেদ, রুহুল আমিন, কয়েছ আহমদ, জাকারিয়া, সাহাব উদ্দিন, ইউসুফ আলী, সুহেল আহমদ ও আমির হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সংশ্লিষ্টরা বলেন, একদিকে পরিবেশ আইন ও সরকারি বিধিবিধান বাস্তবায়ন, অন্যদিকে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী চুন শিল্প ও এর সঙ্গে জড়িত মানুষের কর্মসংস্থান—দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়েই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।