রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্যের দামে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে এম এ মান্নান প্রাথমিক মেধা বৃত্তির পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব: এমপি কয়ছর আহমদ পেনাং-এ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘চিত্তবিনোদন ও মিলনমেলা’ অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে চোর সিন্ডিকেটের হানা; মাঠে নেমেছে বাজার কমিটি সাতটার পরই অন্ধকার সিলেট: লোডশেডিং ও বন্ধ দোকানে বাড়ছে ছিনতাই-চুরি মেধাভিত্তিক জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী সাচনা-সুনামগঞ্জ সড়কে ধান ও খড় শুকানো: বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কুলাউড়ায় কেটিএফ মেধাবৃত্তি পেল ৭০ শিক্ষার্থী
advertisement
রাজনীতি

পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের (মাঝে) সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিদল। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তাঁর ঢাকা সফরের প্রথম দিনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে তিনি রাজনৈতিক পরিসরসহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে এই সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে তিনি পাকিস্তানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ইসহাক দার দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় পৌঁছান। বেলা দুইটার দিকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে বিকেল থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেন তিনি।

ইসহাক দারের সঙ্গে শনিবার বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ। তিনি গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে জোর দিয়ে দুই দেশের নানা ক্ষেত্রে সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিতে তিনি জোর দিয়েছেন। শামা ওবায়েদ বলেন, সামগ্রিকভাবে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং জনগণের প্রেক্ষাপট থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি।’ আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির নেতা শামা ওবায়েদ।

বৈঠকের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়, ইসহাক দার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে পাকিস্তানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আলোচনায় আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক জোট সার্ক প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের মৌলিক ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়। বৈঠকে বিএনপির নেতারা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে অতীতের উচ্চপর্যায়ের আলাপ-আলোচনার প্রসঙ্গ তোলেন।

অমীমাংসিত ইস্যুগুলো দুই দেশের সরকারের বিষয়
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের যে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো রয়েছে, তা দুই দেশের সরকারের বিষয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

শনিবার ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং কীভাবে সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি করা যায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গত প্রায় ১৫ বছরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কিছুটা একপেশে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশ সরকার বা আমরা সবাই মনে করি যে এই অঞ্চলে সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই আমাদের সুসম্পর্ক থাকা দরকার। সেটার ব্যাপারে দুই পক্ষই জোর দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যেসব অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে, সেগুলো অনুকূল পরিবেশে দ্রুত শেষ করা দরকার।

৭১-এর অমীমাংসিত ইস্যুগুলো বৈঠকে আপনারা তুলেছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘এসব বিষয় হচ্ছে দুই দেশের সরকারের আলোচনার বিষয়। আমরা আশা করি, সরকার সেগুলো আলোচনা করবে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন কখন কীভাবে হবে, সেটা প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে। এটা নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে ইসহাক দারের বৈঠকে পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারের উপায় এবং এ অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ছিল আলোচনার দুটি প্রধান বিষয়।

সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর এনসিপির
পাকিস্তান হাইকমিশনে ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি নেতারা পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের অতীতের বৈরী সম্পর্ক থেকে বের হয়ে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একাত্তরের ইস্যু পাকিস্তানের ডিল (সমাধান) করা উচিত বলে তুলে ধরেছেন তাঁরা।

বৈঠকে এনসিপির সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাকিস্তান নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের যে ধারণা, সেটা তাদের কাছে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। এনসিপি মনে করে, বিগত সময়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার যে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক ছিল, সেখান থেকে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জনগণের যে পারসেপশন (ধারণা), সেটাকে সবচেয়ে সেনসিটিভ (স্পর্শকাতর) হিসেবে বিবেচনায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এনসিপি মনে করে, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৭১ ইস্যুকে অবশ্যই ডিল করা উচিত।

৭১-এর-অমীমাংসিত তিন ইস্যু সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায়—এ নিয়ে ইসহাক দার কিছু বলেছেন কি না, জানতে চাইলে আখতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি পাকিস্তান জানাবে। একই বিষয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি, ৭১-এর বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা উচিত। তারা বলেছে, তারা এটাতে প্রস্তুত।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত তিনটি প্রধান বিষয় রয়েছে। এগুলো হলো একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন এবং অবিভাজিত সম্পদে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা পাওয়া। গত এপ্রিলে ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছিল।

শনিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়েছে, এনসিপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ইসহাক দার দলটির নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসহাক দার ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইকবাল খানের বাসায় আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামীকাল রোববার সকালে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করবেন। এরপর তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে প্রথমে একান্তে এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক করবেন।

এরপর দুই দেশের মধ্যে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা রয়েছে। বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে তাঁর গুলশানের বাসায় যাবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই সম্পর্কিত আরো

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্যের দামে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

শান্তিগঞ্জে এম এ মান্নান প্রাথমিক মেধা বৃত্তির পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব: এমপি কয়ছর আহমদ

পেনাং-এ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘চিত্তবিনোদন ও মিলনমেলা’ অনুষ্ঠিত

কোম্পানীগঞ্জে চোর সিন্ডিকেটের হানা; মাঠে নেমেছে বাজার কমিটি

সাতটার পরই অন্ধকার সিলেট: লোডশেডিং ও বন্ধ দোকানে বাড়ছে ছিনতাই-চুরি

মেধাভিত্তিক জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

সাচনা-সুনামগঞ্জ সড়কে ধান ও খড় শুকানো: বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

কুলাউড়ায় কেটিএফ মেধাবৃত্তি পেল ৭০ শিক্ষার্থী