ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আজ শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের জিয়া হল প্রাঙ্গণে বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী উদাহরণসহ একটি গাণিতিক হিসাব তুলে ধরে বলেন, প্রতি লিটার ডিজেলে যে পরিমাণ দাম বেড়েছে, তাতে পণ্য পরিবহনের খরচ ও পণ্যের মূল্যে বড় কোনো পরিবর্তন আসার কথা নয়। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে একটি ট্রাকে গড়ে ৩০ লিটার ডিজেল লাগে। ৩০ লিটার তেলের জন্য খরচ বাড়বে ৪৫০ টাকা। অথচ একটি ট্রাকে পণ্য থাকে ১০ হাজার কেজি। ১০ হাজার কেজিকে ৪৫০ টাকা দিয়ে ভাগ করলে প্রতি কেজিতে খরচ বাড়ে মাত্র ৪ দশমিক ৫ পয়সা (মন্ত্রী ৪৫০/১০,০০০ এর হিসাবে ৪৫ পয়সার কথা উল্লেখ করলেও গাণিতিক হিসেবে এটি ৪.৫ পয়সা হয়)। সুতরাং কেউ যদি তেলের অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়ায়, তবে সেই তথ্যের প্রকৃত কাউন্টার দেওয়ার জন্য আমি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
অহেতুক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সাংবাদিকদের প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক মন্দাভাব এবং রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম বাড়লেও সরকার দেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কাজ করে যাচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে ব্যক্তি খাতের কলকারখানাগুলোতে। গ্যাসের সামগ্রিক চাহিদা মেটানোর জন্য এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রেই গ্যাসের সরবরাহ কম পেয়েছি, তবে বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
পাট খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, পাট এক সময় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল। বর্তমানে পাটবীজের জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার একটি ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নিয়েছে যাতে দেশেই স্বল্পতম সময়ে উন্নতমানের পাটবীজ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান এবং পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নুরুল বাসির। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসনিম আক্তারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মন্ত্রী গোদনাইলে অবস্থিত চিত্তরঞ্জন টেক্সটাইল মিল পরিদর্শন করেন।