ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন সোমবার (৯ নভেম্বর) শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে হবে। অধিবেশনটি মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষার অধিবেশন। গত ১৪ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন।
সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে অধিবেশনের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১০ কার্যদিবস এই অধিবেশন চলতে পারে।
জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি রোববার যুগান্তরকে বলেন, এবারের অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে। অধিবেশনে পাঁচ থেকে ছয়টা বিল আসতে পারে। এই বিলগুলোর ওপর আলোচনা হবে। আগামী জানুয়ারিতে নতুন অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকায় এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও প্রশ্নোত্তর, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ এবং সাধারণ আলোচনার বিষয়গুলো অধিবেশনে থাকবে।
স্বাভাবিক নিয়মে প্রতি বছরই জানুয়ারি মাসে বছরের প্রথম অধিবেশন বসে। সে অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন অর্থাৎ ২০২৭ সালের প্রথম অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। রীতি অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাষণ দেবেন। এরপর তার ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেবেন সরকার এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরেও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে চলমান ও জনগুরুত্বসম্পন্ন ইস্যুতে সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব এলে তা নিয়েও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে আলোচনা হতে পারে। তবে বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব এই অধিবেশনে উপস্থাপন হচ্ছে না। সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি প্রস্তাব তৈরির কাজ করছে। জানুয়ারিতে সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে এটি উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ১২ মার্চ শুরু হয়। ২৫ কার্যদিবস অধিবেশন চলার পর ৩০ এপ্রিল প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। এ সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২০৩১ সালের ১১ মার্চ।