মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের প্রচণ্ড তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উপজেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের একটি একাডেমিক ভবন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বয়ে যাওয়া ঝড়ে কলেজের চার কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেড ভবনটি বিধ্বস্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায় প্রকৃতির তাণ্ডবলীলার ধ্বংসাবশেষ। কলেজের পশ্চিম দিকে অবস্থিত দীর্ঘ টিনশেড ভবনটির ওপরের সম্পূর্ণ চালা উপড়ে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ঝড়ে ভবনের আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক (পাস) কোর্সের পাশাপাশি সাতটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। বর্তমানে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত। বিশাল এই শিক্ষার্থী সংখ্যার বিপরীতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বিধ্বস্ত ভবনটি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজাতা সরকার বলেন, > "আমাদের এমনিতেই কক্ষ সংকট রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রির পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে এই টিনশেড ভবনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত এটি মেরামতের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি সহযোগিতা কামনা করছি।"
অধ্যক্ষ আরও জানান, ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীর চাপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বহুমাত্রিক চাহিদা মেটাতে এই মুহূর্তে একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা অপরিহার্য। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত একটি স্থায়ী একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইয়াকুব-তাজুল মহিলা কলেজ কুলাউড়া তথা মৌলভীবাজার জেলায় নারী শিক্ষায় অনন্য অবদান রেখে আসছে। বৃহত্তর সিলেট বিভাগের এটিই প্রথম কোনো বেসরকারি কলেজ, যেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৭টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে এটি জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহিলা কলেজ হিসেবে গৌরব অর্জন করেছে।
এমন একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে এবং স্থায়ী ভবন নির্মাণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।