সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বসতবাড়িতে অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিয়নের ইলিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মাহবুব আহমেদ ও রাহীন মিয়া মোটরসাইকেলের মাধ্যমে পেট্রোল সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে মজুদ করছিলেন। এ সময় বিষয়টি রাহীনের চাচাতো ভাই নাঈম মিয়া মোবাইলে ভিডিও ধারণ করলে তাদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে নাঈম মিয়া (২১), তার ভাই খলিল মিয়া (২৩), বাবা বাদশা মিয়া (৬০), মা ফুলতেরা বেগম (৫২) এবং রাহীন মিয়া (১৯), তার বাবা দবির মিয়া (৫৮) ও মা ছলিমা বেগম (৪৩) আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় মুরব্বীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দবির মিয়ার বাড়ি থেকে ১০টি ড্রামসহ প্রায় ১৭০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করে ইউপি সদস্য শেখ ফজর রহমানের জিম্মায় দেন। পরে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিম্মায় থাকা পেট্রোল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে জব্দকৃত পেট্রোলের পরিমাণ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয় সূত্রে ১৭০ লিটার পেট্রোল উদ্ধারের কথা বলা হলেও পুলিশ জানিয়েছে, ১০টি ড্রামের মধ্যে ৫টি খালি ছিল এবং বাকি ৫টি ড্রাম থেকে মোট ১২০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে বিশ্বনাথ থানার এসআই স্বপন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে মাহবুব আহমেদ ও রাহীন মিয়াকে এজাহারভুক্ত আসামি করে এবং আরও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ ও বিক্রির পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।