বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

সিলেটে কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় নির্যাতন, আটক ৩

সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরে এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো ও নির্যাতনের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।


এর আগে নগরীতে এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে টানাহেঁচড়া ও নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। 

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম।

আটক তিনজন হলেন নগরীর শাহজালাল উপশহর সি-ব্লক, ৪৪ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাসার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (৪৩) ও মো. মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার ৫৪ নম্বর বাসার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. বুরহান উদ্দিন (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকায় ১৫-১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে আটক করেন স্থানীয় কয়েক যুবক। 


মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরির চেষ্টা করে ওই কিশোরী। এ সময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে কোমরে শেকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক শিকল দিয়ে কিশোরীর কোমর বেঁধে তাকে সড়কে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।

ঘটনার বিষয়ে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তার বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছর হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সে একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরি করেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। এমনকি কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসার পরও স্থানীয়রা পুলিশকে কোনো সহযোগিতা করেননি। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।


এদিকে কিশোরীকে শিকল পরিয়ে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করা হয়।


এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করতে পারেন। তবে আটকের পর তাকে দ্রুত পুলিশের কাছে বা নিকটবর্তী থানায় হস্তান্তর করতে হয়। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিকে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়ার অধিকার সাধারণ নাগরিকের নেই। কোমরে শেকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটানো কিংবা তার ওপর শারীরিক বা মানসিক চাপ প্রয়োগ আইনপরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
 

এই সম্পর্কিত আরো