ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বিষহ।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতিদিন নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। উপজেলার জাউয়াবাজার থেকে প্রায় এক ঘণ্টার নৌপথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয় তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টার পর যাত্রীবাহী নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করতে হয়। এছাড়া নৌকা চলাচলের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতেও বিলম্ব হয়ে থাকে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কর্মরত চারজন শিক্ষকের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাদ্দেক আহমদ এবং সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা বেগমকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।
এ সময় সহকারী শিক্ষিকা শাহনাজ বেগম ও ফারহানা আক্তার সুমি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছিলেন। এছাড়া দপ্তরি প্রহরী আজাদ মিয়া এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা একজন বেসরকারি শিক্ষিকাও উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত শিক্ষিকাদের কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দুপুর ১২টার দিকে জরুরি কাজে ছাতকে চলে যান। অপর শিক্ষিকা খাদিজা বেগমের বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।
বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাদ্দেক আহমদ বলেন, আমি সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম। বিদ্যালয়ের জরুরি কাজে দুপুর ১২টার দিকে ছাতক উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসেছি।
বর্তমানে শিক্ষা অফিসে অবস্থান করছি। সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা বেগম বলেন, জ্বর থাকা সত্ত্বেও আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম।
পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে চলে আসি। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা হুসিয়ার আলী বলেন, এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই দুর্বল।
চারজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ। যোগাযোগ সমস্যার কারণে উপস্থিত হতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
তবে প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলতে দেখি। শিক্ষকরা কখন আসেন বা কখন চলে যান, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ছাতক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শাহজাহান আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করপন বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টিতে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌকা হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রতিদিনই নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা শিক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।