জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নকে জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বাস্তবতার ভিত্তিতে বিভক্ত করে ‘পূর্ব দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ দাবিতে জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে পূর্ব দরবস্ত উন্নয়ন পরিষদ।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৩টায় জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পূর্ব দরবস্ত উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. নূরুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আনোয়ারুল আম্বিয়া, সদস্য সচিব ও জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফয়েজ আহমদ, সদস্য আব্দুল হেকিম বাবুল এবং মিনহাজুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জৈন্তাপুর উপজেলায় দুটি ইউনিয়ন ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে ১নং নিজপাট ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়ন, ৩নং চারিকাটা ইউনিয়ন ও ৪নং দরবস্ত ইউনিয়ন গঠন করা হয়। একই বছর গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬নং ফতেপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ সংযুক্ত করে ৫নং ফতেপুর ইউনিয়ন গঠিত হয়। পরে ২০০৩ সালে ৫নং ফতেপুর ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়ন জৈন্তাপুর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বর্তমানে ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে দরবস্ত ইউনিয়নের আয়তন ও জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ইউনিয়নটির জনসংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক বলে দাবি করা হয়। অধিকাংশ বাসিন্দা কৃষি, শ্রম ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন কার্যক্রম সীমিত থাকায় দরবস্ত ইউনিয়নের জনগণ ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষের জন্য প্রশাসনিক সেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার বিস্তৃত এ তিনটি ওয়ার্ডে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। অথচ অতীতে কম ভোটার সংখ্যা নিয়েও নতুন ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। তাই ৪নং দরবস্ত ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ‘পূর্ব দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন সময়ের দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নতুন ইউনিয়ন গঠনের দাবি নতুন নয়। ২০২২ সালে তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যায়।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২২ এপ্রিল জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পুনরায় আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ সময় বক্তারা নির্বাচিত সরকারের কাছে দ্রুত পূর্ব দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান, যাতে এলাকার মানুষের প্রশাসনিক সেবা ও উন্নয়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হয়।