সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুরে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর নাদিয়া বেগম (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নিজ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সড়ক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী নাদিয়া বেগম জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। সে জালালপুর ইউনিয়নের টাকির মোড়া এলাকায় নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। নাদিয়ার পিতা আবু বক্কর এবং মাতা আনোয়ারা বেগমের স্থায়ী বাড়ি বালাগঞ্জ উপজেলায়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে নাদিয়া বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেন। মঙ্গলবার সকালে জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। বর্তমানে সে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে।
উদ্ধার হওয়ার পর নাদিয়া জানায়, সোমবার স্কুলে যাওয়ার পথে জালালপুর বাজারের ব্রিজ পার হওয়ার পর তার আর কিছু মনে নেই। পরবর্তীতে দুইবার জ্ঞান ফিরলে সে নিজেকে একটি অজানা ঘরের ভেতরে বন্দি অবস্থায় দেখতে পায়। সেখানে সরাসরি কাউকে দেখতে না পেলেও তাকে চুপ থাকার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে সে জানায়।
এদিকে, জালালপুর বাজার এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে নাদিয়া আরও দুই কিশোরীর সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিল। তবে ব্রিজ অতিক্রম করার পর তার গতিবিধি সম্পর্কে আর কোনো তথ্য মেলেনি। জনবহুল এলাকা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া এবং পরদিন বিদ্যালয়ের সামনে অজ্ঞান অবস্থায় ফিরে আসার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজে বের করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।