বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

মৌলভীবাজারে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে, একজন গ্রেফতার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নং কালাপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের লামুয়া গ্রামে এক অবুঝ শিশুকে পৈশাচিক নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। আজ (১৬ জুন) সকাল আনুমানিক ৭টার সময় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় কালাপুর ইউনিয়নের লামুয়া গ্রামের মুসলিম মাস্টারের ছোট ছেলে, কুখ্যাত মাদকাসক্ত আনোয়ার হোসেনকে (৩৮) গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

বর্তমানে এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ওই শিশুটি প্রতিদিনের মতো মক্তবে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে কুখ্যাত মাদকাসক্ত আনোয়ার হোসেন (৩৮) শিশুটিকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে সে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।

পরবর্তীতে শিশুটির চিৎকার এবং শারীরিক অবস্থা দেখে বিষয়টি জানাজানি হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো লামুয়া গ্রামে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনা শোনার পরপরই ফুসে ওঠে স্থানীয় এলাকাবাসী। শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং অভিযুক্ত আনোয়ারের বাড়ি ঘেরাও করেন। এরপর খবর দেওয়া হয় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশকে।

সংবাদ পাওয়া মাত্রই শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কুখ্যাত নির্যাতনকারী আনোয়ারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং লামুয়া গ্রামের সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আনোয়ার এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত এবং অপরাধপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার মতো সমাজবিরোধীর কারণে আজ একটি অবুঝ শিশুর জীবন বিপন্ন।

এলাকাবাসীর বক্তব্য: "আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ধর্ষক আনোয়ারের সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসি দাবি করছি। প্রশাসন যেন কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখায়। এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে যেন আর কোনো অপরাধী এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।"

ভুক্তভোগী শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে সরব পুরো শ্রীমঙ্গল।

এই সম্পর্কিত আরো