আর মাত্র ২ দিন পরেই পবিত্র কোরবানির ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে গোলাপগঞ্জে জমে উঠেছে পশুর হাট । সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্রেতারাও আসছেন কোরবানির জন্য পশু কিনতে। গত দু-তিন দিন থেকে গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন হাট ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাটগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে ক্রেতারা জানান, হাটে ভারতীয় গরু কম থাকায় দেশীয় গরুর দাম চড়া। উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট বসে পুরকায়স্থ বাজার, রাউকার বাজার ও গোলাপগঞ্জ বাজার ।
সরেজমিনে এ সব বাজারে গিয়ে দেখাযায়, হাটে বিভিন্ন প্রজাতির গরু উঠেছে পাশাপাশি রয়েছে ছাগল। ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে তুলনামূলক গরু ও ছাগলের দাম একটু বেশি বলে জানান অনেক ক্রেতা। শহিদ আহমদ নামের এক বিক্রেতার দাবী গরু পালন করতে গিয়ে বছর জুড়ে যে পরিমাণ খরচ করেছেন সেই তুলনায় ক্রেতাদের কাছ থেকে দাম কম পাচ্ছেন। তবে ক্রেতা-বিক্রেতার দাম-দরের মধ্যেই জমে উঠেছে হাট । বড় গরুর দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা মাঝারি আকৃতির গরু ক্রয় করছেন বেশি।
সিলেট শহর থেকে গরু কিনতে আসা এডভোকেট শাহরিয়ার আহমদ রুবেল জানান, পুরো হাট ঘুরছি তবে যে গরু ভালো লাগে বিক্রেতা দাম বেশি হাকান। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখাযায়, অধিকাংশ ক্রেতা মাঝারি আকৃতির গরু বেশি কিনছেন তবে মাঝারি গরুর পাশাপাশি বড় আকৃতির গরুও বিক্রি হচ্ছে। । এ বছর ভারতীয় গরু এখনও পর্যন্ত দেশে না আসায় দেশীয় গরুর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। চাহিদার সঙ্গে দামটাও অন্যান্য বছরের চেয়ে একটু বেশি বলছেন বিক্রেতারা।
পুরকায়স্থ বাজারের মহালদার গিয়াস উদ্দিন জানান, আমরা ক্রেতা বিক্রেতাদের কথা চিন্তা করে সামান্য লাভ রেখে প্রতিটি পশুর সিটের দাম কমিয়ে রাখছি। ক্রেতাদের উপস্থিতিও ভালো। বেচা-বিক্রি এখনও বেশ জমে উঠেছে।
গোলাপগঞ্জ বাজারে গরু কিনতে আসা বিয়ানীবাজার মাথিউরা গ্রামের সারওয়ার জানান, বাজেট থেকে গরুর দাম বেশি হওয়ায় বুধবার রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। আব্দুল মালিক নামের আরেক ক্রেতা জানান, অপেক্ষা করতেছি যদি ভারতীয় গরু আসে তাহলে বাজারে গরুর দাম কমতে পারে। গরুর পাশাপাশি ছাগলেরও বিক্রি চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে বড়- মাঝারি আকৃতির ছাগল কিনছেন অনেক ক্রেতা।
আব্দুল মতিন নামের এক ছাগল বিক্রেতা জানান, তিনি বিভিন্ন সাইজের ১০ টি ছাগল নিয়ে হাটে এসেছিলেন। সবগুলো ছাগল বিক্রি হওয়ায় তিনি খুব খুশি। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য বিভিন্ন হাটে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চায আরিফুল ইসলাম জানান, জনসাধারণের নিরাপত্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা এড়াতে গোলাপগঞ্জের বড় হাট বাজারে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।