সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে প্রথম স্বামীর সংসার থেকে কৌশলে সরিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ওই নারী প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে দেনমোহর, ভরণপোষণ ও যৌতুকের অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করায় ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরদল গ্রামের আফতাব উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া বেগমের সঙ্গে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর একই ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মারুফ আহমদের বিয়ে হয়। চার লাখ টাকা দেনমোহরে সম্পন্ন হওয়া ওই বিয়ের পর তাদের সংসার স্বাভাবিকভাবে চলছিল বলে দাবি করেছেন মারুফ আহমদ।
মারুফের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসার চলাকালে সুমাইয়া অন্তঃসত্ত্বা হন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন অজুহাতে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে সৌদি আরব প্রবাসী মখলিছ উদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মখলিছ উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী, যিনি সুমাইয়ার খালাতো বোন ছিলেন, দুই সন্তান রেখে মারা যান।
মারুফ আহমদের দাবি, স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকার সময় তাদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হলেও তাকে সন্তানের মুখ পর্যন্ত দেখতে দেওয়া হয়নি। স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে তিনি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। বরং তাকে তালাক দিতে চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হলে আদালতের মাধ্যমে তালাকের নোটিশ পাঠিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে সৌদি আরবে অবস্থানরত মখলিছ উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিয়ে সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ফিরে আসা মখলিছ উদ্দিনের সঙ্গে সুমাইয়া দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন।
এরই মধ্যে সুমাইয়া বেগম সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রথম স্বামী মারুফ আহমদসহ তার পরিবারের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। মামলায় দেনমোহর, নিজের ও সন্তানের ভরণপোষণ এবং পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ এনে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মারুফ আহমদের অভিযোগ, মামলা দায়েরের আগেই সুমাইয়া দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, কিন্তু বিষয়টি মামলায় উল্লেখ করা হয়নি।
সুমাইয়ার বর্তমান স্বামীর এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল হক তোতা জানান, মখলিছ উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে দেখাশোনার বিষয় বিবেচনায় আত্মীয়তার সূত্রে সুমাইয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। তিনি জানান, কয়েক মাস ধরে তারা একসঙ্গে সংসার করছেন এবং সুমাইয়ার আগের সংসারের সন্তানও বর্তমানে তাদের সঙ্গেই রয়েছে।
বিষয়টি জানতে সুমাইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তবে তার বর্তমান স্বামী মখলিছ উদ্দিন বলেন, “কাবিননামার মাধ্যমে বৈধভাবে আমি সুমাইয়াকে বিয়ে করেছি।”
অন্যদিকে মারুফ আহমদ দাবি করেন, তিনি কখনো স্ত্রীকে নির্যাতন করেননি বা যৌতুক দাবি করেননি। তার অভিযোগ, আর্থিকভাবে সচ্ছল প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার সংসার ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং এখন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, একই ঘটনায় একাধিক বিয়ে, পারিবারিক বিরোধ এবং আদালতে দায়ের করা মামলাগুলোকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।