মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
গোলাপগঞ্জে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট নবীগঞ্জের অনলাইন ক্যাসিনো ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সর্বশান্ত যুবসমাজ ও প্রবাসীর স্ত্রীরা সিলেটে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পথ সভা অনুষ্ঠিত কুয়ালালামপুরে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার মালয়েশিয়া কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত এক-এগারোর ‘মূল কুশীলব’ হিসেবে মইন-মতি-মাহফুজের নাম দোয়ারাবাজারে ভাগ্নের হাতে খালা খুন, ঘাতকসহ আটক ৩ পর্যটন শিল্পে যুগান্তকারী উদ্যোগ : ১০০ দিনে সরকারের কৌশলগত অগ্রগতি ঈদ উপলক্ষে মিরপুরে মানবিক সহায়তা দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ সবাইকে সাথে নিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে : বিশ্বনাথে তাহসিনা রুশদীর এমপি কোরবানির পশুর হাট: ছোট ও মাঝারি গরুর বেশি চাহিদা
advertisement
সিলেট বিভাগ

নবীগঞ্জের অনলাইন ক্যাসিনো ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সর্বশান্ত যুবসমাজ ও প্রবাসীর স্ত্রীরা

নবীগঞ্জে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার ফাঁদে পড়ে শত শত নারী পুরুষ এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন অন্যত্র। কেউ আবার বাড়ি ঘর বিক্রি করেছেন। অনেক প্রবাসীর স্ত্রী এসব অনলাইনের জুয়ার ফাঁদে পড়ে হারিয়েছেন টাকা পয়সা সহ সুখের সংসার। নবীগঞ্জের সর্বত্র এখন ব্যাপক হারে অনলাইন ক্যাসিনো এখন আলোচিত বিষয়। গ্রাম গঞ্জে সর্বত্র এই অনলাইন ক্যাসিনো ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে নবীগঞ্জের আলোচিত ক্যাসিনো ব্যবসায়ী মামুনের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে শতাধিক পরিবার। অভিযুক্ত মামুন কয়েক বছর আগেও ছোট একটি কোম্পানীতে কর্মরত ছিলেন। ১০/১৫ হাজার টাকার বেতনে চাকুরী করে কোন রকম জীবিকা রক্ষা করতেন। অভাব-অনটন ছিল সংসারের নিত্যদিনের সঙ্গী। অনলাইন জুয়ার জুয়ার ব্যবসা খুলে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। গড়েছেন অঢেল সম্পদ,রয়েছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্টান,জমি-জমাসহ বিলাসবহুল গাড়ী-বাড়ি। নিয়মিত ঘুরতে যান দেশে বিদেশে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।

বর্তমানে ক্যাসিনোর এজেন্সি খুলে মামুন এখন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ।

বিকাশ,নগদ,ফ্ল্যাক্সিলোডসহ রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানীর এজেন্সি রয়েছে তার নামে বেনামে। এসব এজেন্সির মাধ্যমে তিনি তিনি ও কার বাহিনী সংগ্রহ করেন বিভিন্ন লোকের মোবাইল নাম্বার ও বিশেষ করে প্রবাসীদের স্ত্রীদের নাম্বার সংগ্রহ করেন বিকাশ ও ফ্ল্র্যাক্সিলোডের দোকান থেকে। পরে তিনি এসব নাম্বার তার অনলাইন ব্যবসার লোকজন প্রথমে হোয়াটচ্যাপে এসএমএস করে বিভিন্ন কোম্পানির নাম দিয়ে নানা রকম অপার করবে। অথবা তার লোকজন বিদেশী নাম্বার থেকে ফোন করে নানা ভাবে বুঝয়ে লাভজনক অপার করবে। তাদের কথা মতো টাকা দেয়া হলে, পরে তাদের মোবাইল নাম্বার গুলো বন্ধ পাওয়া যায়। নবীগঞ্জ উপজেলার আমুকোনা গ্রামের এক সৌদি প্রবাসীর বউ ২৫ লাখ এসব অনলাইন জুয়ার খেলে এখন তিনি স্বামী সন্তান রেখে ঋণ গ্রস্থ হয়ে পালিয়ে কেড়াচ্ছেন।

জুয়ারীরা নামে বেনামে সীম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ারীদের টাকা লেনদেন করেও হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমান অর্থ। এই অনলাইন জুয়া বা ক্যাসিনোর ফাদেঁ পড়ে স্বর্বশান্ত হচ্ছে যুব সমাজ। কেউ স্বর্বস্ব খুইয়ে আত্মহত্যাও করেছেন।

আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া যুবকের নাম মামুনুর রশীদ। তিনি ক্যাসিনো মামুন হিসেবে এক নামে পরিচিত। তাঁর বাড়ি উপজেলার করগাওঁ ইউনিয়নের বড় সাকুয়া গ্রামে। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, ওই গ্রামের সবুজ মিয়ার পুত্র সুমন ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষে নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন । অভাব অনটনে পড়ালেখা আগায়নি। ২০১২-২০১৫ পর্যন্ত আউশকান্দি গার্মেন্সে চাকুরী করতেন। ২০১৬-২০১৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় একটি গার্মেন্সে চাকুরী করেন। সেই সময় থেকেই অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন মামুনুর রশিদ মামুন। ২০১৯ সালের দিকে ক্যাসিনোর বদৌলতে হঠাৎ আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান মামুন। কয়েক বছরের মধ্যে কোটিপতি হয়ে উঠেন।

শহরে খোলেন ঢাকাইয়া ফুচকা হাউজ। দৌড়ান প্রায় ৩০ লাখ টাকা মুল্যের প্রাইভেট কার। ইদানিং প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন আরেকটি গাড়ী ক্রয় করেন। প্রায় অর্ধ কোটি টাকা জমি ক্রয় করেন নিজ এলাকায়। তিনি বিয়ে করেছেন ৩টি। ৩/৪ বছর আগেও যে মামুন গার্মেন্সে চাকুরী করতো। কোন মতে চলতো তার সংসার। ৪ বছরের তার পরিবর্তন দেখে হতবাক স্থানীয় লোকজন।

বর্তমানে নবীগঞ্জে ক্যাসিনো ব্যবসার গডফাদার হয়ে উঠেছে মামুন। ফলে শত শত যুব সমাজ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ধ্বংসের পথে। অনলাইন জুয়ার পাশাপাশি ক্যাসিনোর এজেন্সি খোলে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। ভাগ দিচ্ছেন সরকার দলীয় সহযোগি সংগঠনের একাধিক নেতাকে। ফলে শেষ হয়ে যাচ্ছে যুব সমাজ। বর্তমানে নবীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর কবলে পড়ে অনেক পরিবার পথে বসেছেন।

উপজেলার মান্দারকান্দি গ্রামে এক যুবকে অনলাইন জুয়ার কবলে পড়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করে। যতক্ষন পর্যন্ত ক্যাসিনো ব্যবসায়ী মামুনদের মতো এজেন্সি ব্যবসায়ীদের বন্ধ করা না যায়, ততক্ষন পর্যন্ত অনলাইন জুয়া বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে ওরা খুবই চালাক ও চতুর। তাদের নিজ নামে কোন ডকুমেন্ট খোজেঁ পাওয়া মুশকিল। তারা বিকাশ কোম্পানীর লোকদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন নামে-বেনামে সীম তোলে ব্যবসা করে আসছে। এক সীম দিয়ে এক বা দুইয়ের অধিক লেনদেন করেন না তারা। ঢাকা থেকে ২/৩ হাজার টাকা খরচ করে সীম সংগ্রহ করে তারা। এসব ঘটনায় অভিযুক্ত জাবেদ ও আলমগীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এসেবর সাথে জড়িত নয় মর্মে দাবী করে।

এলাকাবাসী মামুনে রাতারাতি পরিবর্তনে হতবাক। তারা দুদক দিয়ে আয়ের উৎস নিয়ে তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে মামুনের কোটিপতি হওয়ার আসল রহস্য।

এবিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোনায়েম মিয়া বলেন, কেউ যদি আমাদের কাছে নাম ডকুমেন্টস সহ অভিযোগ দেয় , আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

এই সম্পর্কিত আরো

গোলাপগঞ্জে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

নবীগঞ্জের অনলাইন ক্যাসিনো ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সর্বশান্ত যুবসমাজ ও প্রবাসীর স্ত্রীরা

সিলেটে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পথ সভা অনুষ্ঠিত

কুয়ালালামপুরে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার মালয়েশিয়া কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত

এক-এগারোর ‘মূল কুশীলব’ হিসেবে মইন-মতি-মাহফুজের নাম

দোয়ারাবাজারে ভাগ্নের হাতে খালা খুন, ঘাতকসহ আটক ৩

পর্যটন শিল্পে যুগান্তকারী উদ্যোগ : ১০০ দিনে সরকারের কৌশলগত অগ্রগতি

ঈদ উপলক্ষে মিরপুরে মানবিক সহায়তা দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ

সবাইকে সাথে নিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে : বিশ্বনাথে তাহসিনা রুশদীর এমপি

কোরবানির পশুর হাট: ছোট ও মাঝারি গরুর বেশি চাহিদা