জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের চতুর্থ দিনে এসে হাতে পাঁচ উইকেট থাকলেও লক্ষ্য থেকে ১০১ রানের দূরের রাস্তাটা চট্টগ্রামের জন্য হয়ে উঠেছিল পাহাড়সম। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই সমীকরণ কঠিন করে তুলে শেষ পর্যন্ত ১০ রানের রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নিয়েছে খুলনা। এদিকে বরিশালের বিপক্ষে ৮ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে রাজশাহী।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চের চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল চতুর্থ ও শেষ দিনে। খুলনার বিপক্ষে জয়ের জন্য শেষ দিনে চট্টগ্রামের দরকার ছিল মোটে ১০১ রান, আর খুলনার লক্ষ্য ৫ উইকেট। দিনের শুরুতেই মেহেদীর বলে শামীম হোসেন (১০) সাজঘরে ফিরলে ম্যাচের পারদ চড়ে যায়।
পরে অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর (৪৬) ও আবুল হাসনাত দারুণ প্রতিরোধের চেষ্টা চালালেও শেষরক্ষা হয়নি। শেখ মেহেদী এবং রাকিব হাওলাদারের ঘূর্ণি জাদুতে থামে চট্টগ্রামের জয়ের স্বপ্ন। আর ৭৩তম ওভারে প্রতিপক্ষের শেষ ভরসা হাসনাতকে (২৮) ফিরিয়ে খুলনাকে জয়ের উল্লাসে মাতান মেহেদী। এই ইনিংসে তিনি নেন চার উইকেট আর আগের ইনিংসে কোনো ওভার না করা রাকিব এই ইনিংসে তোলেন ফাইফার। দুই ইনিংস মিলিয়ে মেহেদী উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ৫।
এর আগে খুলনার দ্বিতীয় ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন তরুণ ওপেনার আজিজুল হাকিম তামিম, যিনি প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে ১৪২ রানের নান্দনিক এক ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। সেই ইনিংসে খুলনা অলআউট হয় ৩২৩ রানে। তবে শুরুটা মোটেও তাদের পক্ষে ছিল না। ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম ইনিংসে খুলনার সংগ্রহ ছিল ২০১ রান। সেখানে ফিফটি পেরোনো ইনিংস খেলেছিলেন কেবল ইমরানুজ্জামান (৬৪)। আর প্রথম ইনিংসে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ছিল ২৫০ রান।
এদিকে আরেক ম্যাচে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে দেখা মিলল অন্য এক পরাক্রমশালী রূপের। বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে নাঈম আহমেদের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিতে (২৬৭ বলে অপরাজিত ২০২ রান) পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায় রাজশাহী। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল বরিশাল। ২৪৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করা দলটি শেষ পর্যন্ত যোগ করতে পারে কেবল ২৪ রান।
আগের দিন ওপেনার জাওয়াদ আবরার ঝোড়ো গতিতে ৯১ রান করলেও এদিন দলের বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলে বড় সংগ্রহ গড়া হয়নি। বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলামের বিধ্বংসী বোলিং তোপে ২৭৪ রানেই অলআউট হয় বরিশাল। ফাইফার তুলে নেন শফিকুল, সঙ্গে সানজামুল ইসলাম নেন ২ উইকেট।
পরে জয় পেতে রাজশাহীর সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪৭ রানের। ইনিংসে আগের ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান নাঈম আহমেদ ৮ রান করে ফিরলেও, সেই ছোট লক্ষ্য অনায়াসেই টপকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক রাজশাহী।