অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার দশমী পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যায় সুরমা নদী এবং পাগনা, হালি ও ছনুয়া হাওরে উপজেলার ৫৫টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
এর আগে উপজেলার সাচনা জগন্নাথ জিউর মন্দির পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর হক শান্ত, জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলীসহ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমরেন্দ্র আচার্য্য সম্ভু, সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার রায়, জগন্নাথ জিউর মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অজয় পাল চৌধুরী, সহসভাপতি অজিত রায়, সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুক মিয়া, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সভাপতি কৃপেশ বনিক, সাধারণ সম্পাদক অনন্ত পাল এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব বনিক।
প্রতিমা বিসর্জন শেষে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমরেন্দ্র আচার্য্য সম্ভু ও সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার রায় বলেন, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৫৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ, আনসার বাহিনী, মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য তাঁরা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. বন্দে আলী বলেন, এবারের দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এ সাফল্যের কৃতিত্ব উপজেলার শান্তিপ্রিয় মানুষের। পূজামণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সচেতনতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মাধ্যমে বড় ধর্মীয় উৎসবও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপন করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতেও পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলাবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন তিনি। জামালগঞ্জের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের ঐতিহ্য এবারের পূজার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে উৎসবটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতেও জাতীয় ও ধর্মীয় বিভিন্ন আয়োজনে সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।