বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
জাতীয়

৭ বছরে সড়কে ঝরল প্রায় ৮ হাজার শিশুর প্রাণ

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ জন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ শতাংশের বেশি শিশুই ছিল মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী। এ ছাড়া পথচারী হিসেবে যানবাহনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৮১২ শিশু।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ আশঙ্কাজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ২ হাজার ৯৫৮ জন (৩৭.১৪%) মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী, ২ হাজার ১৯৩ জন (২৭.৫৩%) বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী এবং ২ হাজার ৮১২ জন (৩৫.৩১%) পথচারী হিসেবে নিহত হয়েছে। পথচারী হিসেবে প্রাণ হারানো শিশুদের সিংহভাগই (৪৫.১৯%) সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নছিমন ও ভটভটির মতো তিন চাকার যানবাহনের ধাক্কায় মারা গেছে। এ ছাড়া বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ ভারী যানবাহনের চাপায় ১ হাজার ১২৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রামীণ সড়কেই সবচেয়ে বেশি—২ হাজার ৭১৩ জন (৩৪.৭%) শিশু নিহত হয়েছে। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২ জন এবং মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ শিশুর প্রাণহানি ঘটে। বসতবাড়ির আশপাশের গ্রামীণ সড়কে পর্যাপ্ত শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি না থাকা এবং শিশুদের অসচেতনতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে ২ হাজার ৫১৩ জন (৩১.৫৫%) শিশু প্রাণ হারিয়েছে। সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিকেলেই সবচেয়ে বেশি ৩৩.৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বয়সভিত্তিক হিসেবে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি (৪৪.৫৪%)।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, দেশের পরিবহন ব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, অসচেতনতা, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের দৌরাত্ম্য এবং দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় শিশুমৃত্যুর হার বাড়ছে। এ অবস্থা নিরসনে সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়ন, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আহত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসায় সরকারি বিশেষ তহবিল গঠনের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

▐ এই সম্পর্কিত আরো