সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে বোরো ধান কাটা পুরোদমে শুরু হলেও শ্রমিক সংকট ও পানিবদ্ধতার কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে ধান কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
কৃষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওরের অনেক নিচু জমিতে এখনো পানি জমে থাকায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শ্রমিকের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে শ্রমিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বর্তমানে শ্রমিকরা দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি নিচ্ছেন। এতে প্রতি কেয়ার জমির ধান কাটাতে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা। আগে যেখানে হারভেস্টার মেশিনে একই পরিমাণ জমি ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকায় কাটা যেত, সেখানে এখন খরচ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে।
কৃষকরা জানান, অতিরিক্ত খরচের কারণে বোরো চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। দীর্ঘ পরিশ্রমের পরও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বছর সুনামগঞ্জ জেলার ১২ উপজেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। জেলার ১৩৭টি ছোট-বড় হাওরে কৃষকরা ধান কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উঁচু জমিতে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা গেলেও নিচু হাওরাঞ্চলে পানি থাকায় শ্রমিক দিয়েই ফসল কাটতে হচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর এলাকায় দেখা গেছে, কৃষকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে ফসল ঘরে তুলছেন। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক জায়গায় ধান কাটার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক এনে ধান কাটাতে হচ্ছে, ফলে পরিবহন ও মজুরি খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “জেলার ১২ উপজেলায় পুরোদমে ধান কাটা চলছে। বর্তমানে ৬০২টি হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই কৃষকরা সম্পূর্ণ ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।”
তবে কৃষকদের দাবি, শ্রমিক সংকট ও খরচ বৃদ্ধির এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারিভাবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।