শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে ‘মাইআপ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সুনামগঞ্জ শহরতলীর মাইজবাড়ী ইয়ুথ ইউনাইটেড প্লাটফর্ম (MYUP)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় শতাধিক শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, ভূমি কর্মকর্তা জহুর আহমেদ, মাইজবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান তহুর, অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন এবং বুলচান্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রভাষক মাইনুল ইসলাম।
কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তাঁরা পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন। এ ধরনের শিক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি এলাকায় শিক্ষার ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মাইআপ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার মূল লক্ষ্য কেবল মেধাবী শিক্ষার্থী নির্বাচন কিংবা বৃত্তি প্রদান নয়, বরং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করা, তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য ও আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলার পথ তৈরি করা।
আয়োজকদের মতে, প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই রয়েছে অপার সম্ভাবনা। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিচর্যা, অনুপ্রেরণা ও সুযোগ। সেই সুযোগ তৈরির ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবেই মাইআপ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার যাত্রা শুরু হয়েছে।
মাইআপ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা–২০২৬-এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী আকবর বলেন, আমাদের এই আয়োজনের পেছনে সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে মাইজবাড়ীর শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভাকে খুঁজে বের করা এবং তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগানো। আমরা বিশ্বাস করি, একটি শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় আজকের শিশুদের মধ্য দিয়ে। তাই এই বৃত্তি পরীক্ষাকে আমরা শুধু একটি এককালীন আয়োজন হিসেবে দেখতে চাই না, বরং এটিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাবান্ধব সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে চাই। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ কার্যক্রম পরিচালনা, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরীক্ষার ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান লিটন বলেন, একটি সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেই সমাজের প্রতিটি শিশু শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার সুযোগ পায়। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করা। আমরা চাই মাইজবাড়ীর কোনো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী যেন কেবল সুযোগের অভাবে পিছিয়ে না থাকে।
মাইআপের সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যতে মেধাবৃত্তি পরীক্ষাকে নিয়মিত ও আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা, ক্যারিয়ার সচেতনতা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।