জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী কম থাকায় ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম। বিয়ানীবাজারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ চিকিৎসাসেবার জন্য এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল হলেও জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের মঞ্জুরীকৃত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এর মধ্যে সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মনিরুল হক খান সিলেটে বদলি হওয়ায় হাসপাতালের শীর্ষ প্রশাসনিক পদটিও শূন্য হয়েছে। এতে হাসপাতালের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
শুধু চিকিৎসক নয়, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ও সহায়ক পদগুলোতেও রয়েছে জনবল সংকট। বিশেষ করে রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার কার্যক্রম এবং এক্স-রে সেবা পরিচালনায় দেখা দিয়েছে সীমাবদ্ধতা। হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ানের মঞ্জুরীকৃত তিনটি পদের একটিতেও বর্তমানে কেউ কর্মরত নেই। একইভাবে একজন রেডিওগ্রাফারের পদ থাকলেও সেটি শূন্য রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া হাসপাতালের দুটি ফার্মাসিস্ট পদের সবকটিই শূন্য রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্যও পর্যাপ্ত লোকবল নেই। পুরো হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। রোগীর চাপ ও হাসপাতালের পরিসর বিবেচনায় এ সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুনান্তু বিশ্বাস জানান, সীমিত জনবল নিয়েই রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলো পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিয়ানীবাজার সরকারি হাসপাতাল শুধু এ উপজেলার মানুষের নয়, আশপাশের এলাকার মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। তাই রোগীদের ভোগান্তি কমাতে এবং হাসপাতালের সেবার মান বজায় রাখতে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া জরুরি। অন্যথায় জনবল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।