সুনামগঞ্জের মধ্য তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে পূর্ব ঘোষণা দিয়ে চার গ্রামের লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার আবারও সংঘর্ষে জড়ানোর জন্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হয় উত্তেজিত এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজেও লাঠি হাতে মাঠে নেমে পড়েন। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস প্রদান করেন। এরপর তিনি সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পরিদর্শন করেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর এলাকায় সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে চার গ্রামের লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁরা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন পূর্বে শিশুদের ক্রিকেট খেলার সময় একটি বল অটোরিকশায় পড়ে যাওয়ায় বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চার গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের সময় বাড়িঘর ও দোকানে হামলা, ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে।
মধ্য তাহিরপুর এলাকাবাসী জানান, চার গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের গ্রামে হামলা চালিয়েছে। বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটসহ একটি বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। এ সময় ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় এমপি কামরুজ্জামান কামরুল উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এবং বিষয়টি বিচার-সালিশের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, সংঘর্ষের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে। যার ফলে ওইদিন সকালে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। দুপুরের দিকে এক পক্ষ নৌকাযোগে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।