সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার অন্যতম বড় বাজার ধর্মপাশা বাজার। দীর্ঘদিন ধরে বাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে ফেলা ময়লা-আবর্জনা নদীর পাড়ে জমে থাকায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশও হুমকির মুখে পড়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে প্রতি বৃহস্পতিবার বাজারের মাঝখানে বড় গরুর হাট বসে। গরুর হাট ও অন্যান্য কার্যক্রমের কারণে ওই দিন কাঁচাবাজার বসানোর জন্য বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। ফলে সাপ্তাহিক কাঁচাবাজারের একাংশ সড়কের ওপর বসায় জনদুর্ভোগের পাশাপাশি যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
বাজারের এসব সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ এবং প্রশাসনের নজরে আনার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় ধর্মপাশা বাজারের বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে বাজার ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ধর্মপাশা বাজার পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বাজার পরিদর্শনকালে নদীর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লার স্তূপ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র ইউএনওর নজরে আসে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও জনি রায় বলেন, বাজারের ময়লা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, ধর্মপাশা বাজারে বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, নিয়মিত ময়লা অপসারণ এবং বৃহস্পতিবারের কাঁচাবাজারের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা জরুরি। এসব ব্যবস্থা করা গেলে বাজারের পরিবেশ সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগও অনেকটা কমে আসবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের সাম্প্রতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ছবির ক্যাপশন: ধর্মপাশা বাজারের নদীর পাড়ে জমে থাকা ময়লার স্তূপ পরিদর্শন করছেন ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টরা।