মৌলভীবাজার থেকে যুক্তরাজ্যের ব্যস্ত নগরী লন্ডন—পথটা দীর্ঘ হলেও নিজের শিকড়কে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন শারমিন আহমেদ বিথী। মডেলিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে প্রবাসী বাঙালি ও দেশের দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন তিনি।
ক্যামেরার সামনে কখনো সিলেটি গানের মিউজিক ভিডিওর মডেল, কখনো প্রাণবন্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর—বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতা তুলে ধরছেন বিথী। যুক্তরাজ্যে বসবাস করেও সিলেটি ভাষা, গান ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর টান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সেই সংস্কৃতিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
সিলেটি গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেলিং করে ইতোমধ্যে দর্শকদের নজর কেড়েছেন শারমিন বিথী। এখন পর্যন্ত প্রায় আটটি সিলেটি গানে মডেলিং করেছেন তিনি। এর মধ্যে ‘আসমানের পরী’ ও ‘ডায়মন্ড রিং’ গান দুটি তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
মিউজিক ভিডিওতে গানের গল্প, পোশাক, অভিব্যক্তি ও ক্যামেরার সামনে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে আরও কয়েকটি গান। এর মধ্যে ‘রাজকন্যা’, ‘মনের জ্বালা’ ও ‘তুমি সুখী হও’ গানগুলো শিগগিরই প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মিউজিক ভিডিওর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় বিথী। টিকটক, ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করছেন তিনি। তাঁর ‘আশা করছি লন্ডন যাবো স্টুডেন্ট ভিসায়’ শিরোনামের একটি ভিডিও তিন মিলিয়নেরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীর সংখ্যাও প্রায় পাঁচ লাখের বেশি বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে বিথীর পরিচিতি শুধু অনুসারীর সংখ্যা কিংবা ভিডিওর দর্শকসংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি দেশের দর্শকরাও তাঁর কনটেন্টে প্রবাসজীবন, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের নানা গল্প খুঁজে পান।
শারমিন আহমেদ বিথীর বেড়ে ওঠা মৌলভীবাজার শহরে। সেখানেই তাঁর পড়াশোনা ও শৈশব-কৈশোরের সময় কেটেছে। শহরের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পাড়ি দেন যুক্তরাজ্যে।
বিয়ের পর প্রবাসজীবনে প্রবেশ করলেও নিজের সৃজনশীল কাজ থামিয়ে রাখেননি তিনি। বরং নতুন পরিবেশে নিজের কাজের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছেন। তাঁর এই পথচলায় স্বামী এ কে এম রেদওয়ান ঘোরীর অনুপ্রেরণাও রয়েছে। রেদওয়ান নিজেও বিভিন্ন গানের মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। নবীগঞ্জের বাসিন্দা রেদওয়ান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।
গান ও মডেলিংয়ের প্রতি দুজনের আগ্রহ থাকায় একে অপরের কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিলেতে বসবাস করলেও সিলেটের প্রতি বিথীর টান স্পষ্ট। সিলেটি গান ও সংস্কৃতিকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরাই তাঁর অন্যতম স্বপ্ন। তাঁর মতে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হচ্ছে। সেই জায়গাটিকে কাজে লাগিয়ে সিলেটি সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চান তিনি।
বিথীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন সিলেট ও লন্ডনের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি করেছে। একদিকে সিলেটের ভাষা ও সংস্কৃতি, অন্যদিকে লন্ডনের বহুজাতিক পরিবেশ—দুই বাস্তবতার অভিজ্ঞতাকে নিজের কনটেন্টে তুলে ধরছেন তিনি।
মডেলিং দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বিথীর স্বপ্ন এখন আরও বিস্তৃত। মিউজিক ভিডিওর পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে নিজের একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চান তিনি। বিনোদনের পাশাপাশি প্রবাসজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও গল্পও তুলে ধরছেন তাঁর কনটেন্টে।
বিথীর পথচলা এখনও চলমান। সামনে রয়েছে নতুন গান, মিউজিক ভিডিও ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা। মৌলভীবাজারের পরিচিত পরিবেশ থেকে যুক্তরাজ্যের প্রবাসজীবন—এরপর সিলেটি গানের মডেলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি করা; স্বল্প সময়ের এই পথচলায় ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে তাঁর আলাদা পরিচিতি।
এখন তাঁর লক্ষ্য নিজের পরিচিতি ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে সিলেটি গান, ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।