সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চার বাংলাদেশি প্রবাসীর সবার বাড়িই সিলেট বিভাগে। দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের পথে রওনা দিয়েছিলেন তারা। তবে বিমান ধরার আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান চারজন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রবাসীদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে চালকসহ চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। নিহত অপর দুজনের মধ্যে একজনের বাড়ি সুনামগঞ্জ এবং অন্যজনের বাড়ি মৌলভীবাজারে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তারা দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেন। দেশে ফেরার ফ্লাইট ধরতে তারা তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন বলেন, খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। নিহত দুজনই তার ইউনিয়নের বাসিন্দা। পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য তারা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। দেশে ফেরার প্রস্তুতির সময় এমন দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু অত্যন্ত কষ্টের।
তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পরিবার দুটির জন্য এ ক্ষতি অপূরণীয়। তাদের মৃত্যুতে পুরো ইউনিয়নের মানুষ শোকাহত।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত অপর দুই প্রবাসীর বাড়ি সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেলেও তাদের পরিচয় ও ঠিকানা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কানাইঘাটের নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে পরিবার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। পরিবার সিদ্ধান্ত নিলে মরদেহ দেশে আনা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। সেই শোক কাটতে না কাটতেই জুলাইয়ে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় উপজেলার আরও এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এবার দেশে ফেরার পথে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট বিভাগের আরও চার প্রবাসীর মৃত্যু হলো।