জগন্নাথপুর উপজেরার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তেরা মিয়ার বিরুদ্ধে বাগময়না গ্রামের রাস্তার কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত চলাকালে এক প্রতিবাদী যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত মেম্বার তেরা মিয়ার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়। হামলায় মিলাদুর রহমান নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫- ২৬ অর্থ বছরে ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তেরা মিয়া বাগময়না গ্রামের বিভিন্ন রাস্তায় মাটি ভরাট কাজ করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ গ্রহন করেন। উক্ত বরাদ্দে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে সমাজ সেবক জাকির হোসেন চলতি বছরের ২৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশমূলে ১৬ আগষ্ট রবিবার উক্ত অভিযোগের তদন্ত করার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শিমুল আলী সরজমিনে গেলে তদন্ত চলাকালীন সময়ে তেরা মিয়ার কাজের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মেম্বার ও তার লোকজন। একপর্যায়ে তেরা মিয়ার নেতৃত্বে তার সহযোগীরা মিলাদুর রহমানের ওপর অতর্কিত ও সহিংস হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় সরাসরি অংশ নেন অভিযুক্ত বর্তমান মেম্বার তেরা মিয়া, তার সহযোগী মাখন মিয়া, তেরা মিয়ার ছেলে রুবেলসহ আরও বেশ কয়েকজন। হামলার সময় তারা মিলাদুর রহমানকে বেদড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একজন জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে এবং তার নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল এই ঘটনায় জড়িত তেরা মিয়া মেম্বারসহ সকল হামলাকারীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হামলায় আহত মিলাদ মিয়া জানান আমি সব সময় রাস্তার কাজের অনিয়মের কথা বলছি। আজকেআমি বলছিলাম এটা স্বজন শ্রীর রাস্তা তখন তেরা মিয়া মেম্বারসহ তার ভাই ভাতিজা কয়েকজন তদন্ত কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে আমার উপর হামলা করে আমাকে গুরুতর আহত করে। পরে আমাকে গ্রামের লোকজন ও আত্মীয়স্বজন তাদের কবল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জগন্নাথপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।
সমাজ সেবক জাকির হোসেন বলেন, আমি চলতি বছরের ২৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর রাস্তার কাজের অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশমূলে ১৬ আগষ্ট রবিবার উক্ত অভিযোগের তদন্ত করার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসলে মেম্বার তেরা মিয়ার কাজের বিভিন্ন অনিয়মের কথা বলায় তেরা মিয়া মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সম্মুখে তেরা মিয়া মেম্বারসহ কয়েকজন মিলাদুর রহমানকে মরপিঠ করেন। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছি আমরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।