নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের অ্যালবানিজ বলেন, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ৩৪ অস্ট্রেলীয় নাগরিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুর্গত এলাকার চিত্রকে তিনি অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নেপালের দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো এবং নিখোঁজদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়েছে। অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা নেপালি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
নিখোঁজ অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের সন্ধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (ডিএফএটি) উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞসহ অতিরিক্ত কর্মী ওই অঞ্চলে পাঠাচ্ছে।
পেনি ওং জানান, দুর্যোগের ব্যাপকতা এবং দুর্গত এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় নিখোঁজ প্রত্যেক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রয়োজনে কনস্যুলার জরুরি সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে।
এদিকে ভয়াবহ এই দুর্যোগে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত নেপালি সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মেলবোর্নসহ বিভিন্ন শহরে থাকা নেপালিরা দেশে অবস্থানরত স্বজনদের খোঁজখবর নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
অস্ট্রেলিয়ান নেপালি মাল্টিকালচারাল সেন্টারের সভাপতি তিলক পোখারেল বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার বহু পরিবারের সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন। তাঁদের অনেকের স্বজন বাড়িঘর ও সম্পদ হারিয়েছেন। নেপালে থাকা তাঁর পরিচিত এক ব্যক্তি বাড়িঘর হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
তিনি আরও জানান, মেলবোর্নে বসবাসকারী আরেক পরিচিত ব্যক্তি নেপালে তাঁর পরিবারের সব সম্পদ হারানোর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে তাঁর পরিচিতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্যোগে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেলবোর্নের একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নেপালের দুর্গত মানুষের কাছে কীভাবে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা করবেন সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
নেপালে বর্তমানে উৎসবের মৌসুম চললেও ভয়াবহ দুর্যোগের কারণে সপ্তাহান্তের বেশ কয়েকটি উৎসব ও উদ্যাপন বাতিল করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার নেপালি সম্প্রদায়ও উৎসবের পরিবর্তে দুর্গত মানুষ ও তাঁদের স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
হিমবাহ ধসের পর নেমে আসা প্রবল পানি, কাদা ও পাথরের স্রোতে সীমান্তবর্তী বহু জনপদ প্লাবিত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলেও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।