সুনামগঞ্জের ছাতকে মরা চেলা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরির নতুন নির্মিত রোপওয়ের (রজ্জুপথ) ট্রেসেল ঝুঁকিতে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।
বুধবার বিকেলে এমপি মিলন মরা চেলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরির রোপওয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেসেল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে রোপওয়ের ট্রেসেল ঝুঁকিতে পড়লে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও বড় ধরনের ক্ষতি।
এ সময় তিনি মরা চেলা নদী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এমপি মিলন নৌ-পুলিশকে মরা চেলা নদী এলাকায় টহল জোরদার করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাহিদুল ইসলাম, ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, বিট কর্মকর্তা কে বিএম ফেরদৌস, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, ছাতক থানা পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাতক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুর রহমান বাবুল, ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরির উপমহাব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান শেখ, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আনোয়ার হোসেন, উপব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মনিরুল ইসলাম, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, ফ্যাক্টরির সিবিএ বি-৮০-এর সেক্রেটারি শফি উদ্দিন, সিসিএফ সমবায় সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম রাজু, আনসার পিসি মনু মিয়া এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মরা চেলা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ ও তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরির নতুন নির্মিত রোপওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।