সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ এবং এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ শফিকুল আলম মতিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও স্টাফ কাউন্সিলের সেক্রেটারি রতিলাল রায়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৩ আগস্ট কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্টাফ কাউন্সিলের জরুরি সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে সেগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করা হয়। একই সভায় এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একটি স্বার্থান্বেষী মহল বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ শফিকুল আলম মতির প্রায় ৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং কলেজের সুনাম ও ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের নেতৃত্বে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সার্বিক মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগগুলোর বাস্তবতার সঙ্গে কোনো মিল নেই; বরং এগুলো একটি পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ।
এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে যাচাই-বাছাই করে তথ্য গ্রহণ এবং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপপ্রচারে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি সত্য, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ মো. তৈমুছ আলী, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ শফিকুল আলম মতি, সহকারী অধ্যাপক রতিলাল রায়, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, কৃপাসিন্ধু দাস, নিখিল রঞ্জন দাস, সনজিৎ নারায়ণ চৌধুরী ও মো. আকবর আলী; প্রভাষক **শ্রী তপন কুমার দে, আমিন উদ্দিন, শিল্পী সমাজপতি, বাবুল চন্দ্র দেব, আবুল হাসনাত, মো. সাহিন রাজা, মো. খলিলুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম (পদার্থ), প্লাবণী মণ্ডল (নন-এমপিও), মো. খোরশেদ আলম (নন-এমপিও), শরিফুল ইসলাম, আলেয়া ফেরদৌস, মো. কামাল উদ্দিন, মো. কুতুব উদ্দিন (খণ্ডকালীন), সালমা বেগম (খণ্ডকালীন), সামিনা নবী চৌধুরী (খণ্ডকালীন), আশীষ সরকার (খণ্ডকালীন), মো. উমেদ আলী (খণ্ডকালীন) ও মো. তোফায়েল আহমদ (খণ্ডকালীন); প্রদর্শক চন্দন চন্দ্র দেবনাথ; সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান) মো. আজাদ আহমদ; প্রধান অফিস সহকারী রাখাল কৃষ্ণ তারণ; অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ইসরাক হোসেন ও দেবাশীষ চক্রবর্তী; ল্যাব সহকারী (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) সায়লা আক্তার শান্তা; অফিস সহায়ক মো. ছানু মিয়া (খণ্ডকালীন), জ্যোতিষ মালাকার (খণ্ডকালীন), মো. নূর মিয়া, নারায়ণ কান্ত দাস ও মোশাহিদ আলী; আয়া মোছা. চাম্পা বেগম এবং নৈশ প্রহরী কামাল মিয়া ও ওলিউর রহমান (খণ্ডকালীন) সহ কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।