বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের দিন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত সৃষ্টি হয়। ওই দিন আন্দোলনকারীদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণে ৯ জন শহীদ হন এবং আহত হন শতাধিক ব্যক্তি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং পুলিশের এএসআই সন্তোষ হত্যা মামলাসহ মোট ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। তবে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও আলোচিত ‘নাইন মার্ডার’ মামলার তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এখন পর্যন্ত বহুল আলোচিত এই ঘটনার কোনো মামলায়ই আদালত কিংবা ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। তদন্ত প্রক্রিয়ায় চরম ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, এ পর্যন্ত নাইন মার্ডার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) পরিবর্তন হয়েছেন অন্তত সাতবার। বারবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল এবং আইনি জটিলতার গ্যাঁড়াকলে পড়ে পুরো বিচারপ্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাইন মার্ডার মামলা সূত্রে জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েলকে প্রধান আসামি করে ১৬০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলাটি দায়ের করেন শহীদ হাসানের বাবা সানু মিয়া। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে বিগত দুই বছরে মাত্র ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যার মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, অধিকাংশ প্রধান আসামি দেশ-বিদেশে আত্মগোপনে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বাদী ও শহীদ হাসানের বাবা সানু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ঘটনার পর কিছুদিন সবাই পাশে থাকলেও এখন আর কেউ শহীদ পরিবারের খোঁজ নেয় না। মামলার অগ্রগতি কতটুকু তা-ও আমাদের জানানো হয় না।" মামলাটি নিয়ে মোটা অঙ্কের বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি শেষ পর্যন্ত বিচার পাওয়া নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেন।
তদন্তের সার্বিক বিষয়ে বানিয়াচং থানার ওসি (তদন্ত) কবির আহমেদ জানান, নাইন মার্ডার মামলার তদন্ত কাজ এখনো চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন সবুজ সিলেটকে জানান, গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় সারা দেশেই মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে এগোচ্ছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সংস্থার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও ওএসডিসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নাইন মার্ডার মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।