বিয়ের ভুয়া প্রলোভন ও প্রতারণার জালে ফেলে এক তরুণীর জীবন তছনছ করে দেওয়ার নজিরবিহীন ও ন্যক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে চার সন্তানের জনক ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। সুদূর গাইবান্ধা থেকে ডেকে এনে প্রতারণা, শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং দুই শিশু সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রেজু (৬৫) আত্মগোপন করলেও, বর্তমানে তার বাড়িতে ন্যায়বিচারের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন ভুক্তভোগী তরুণী সুমাইয়া আক্তার (২২)।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলা ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক ধর্মপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্রীপুর (চাপড়া) গ্রামের ছামছুল হকের মেয়ে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মাওনা এলাকার একটি কাঁচামালের আড়তে কাজের সূত্রে বৃদ্ধ রাজ্জাকের সঙ্গে পরিচয় হয় সুমাইয়ার। বয়সের বিশাল ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুমাইয়াকে ফাঁদে ফেলেন চতুর রাজ্জাক। গত ১৪ জুলাই বিয়ের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়ে সুমাইয়াকে মাওনা থেকে দোয়ারাবাজারে নিয়ে আসা হয় এবং পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করার অজুহাতে দু'দিন রাত্রিযাপন করা হয়। পরে প্রতারক রাজ্জাক কৌশল করে সুমাইয়াকে ঢাকায় ফেরত পাঠিয়ে দেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সুমাইয়ার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে আর ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান। নিরুপায় সুমাইয়া বিষয়টি রাজ্জাককে জানালে, প্রতারক রাজ্জাক তাকে পুনরায় দোয়ারাবাজারে চলে আসতে বলেন। তার ছলনায় বিশ্বাস করে গত শনিবার (২৫ জুলাই) সুমাইয়া তার দুই অবুঝ শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুন (৭) ও আশা মনিকে (৫) রেখে দোয়ারাবাজারে এসে পৌঁছান। কিন্তু সুমাইয়া এলাকায় পা রাখামাত্রই লম্পট রাজ্জাক মোবাইল বন্ধ করে গা ঢাকা দেন।
সন্তানহারা, সমাজচ্যুত এবং নিঃস্ব অবস্থায় চরম মানসিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তায় পড়ে সুমাইয়া অভিযুক্ত রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী প্রতারক রাজ্জাকের বসতঘরেই বিচারের দাবিতে অবস্থান ও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই জঘন্য প্রতারণা ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এক অবুঝ মায়ের জীবন ধ্বংসকারী লম্পট ও প্রতারক আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রেজুকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী ও এলাকার ক্ষুব্ধ জনতা।