সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে একসঙ্গে একাধিক সংঘর্ষে আহত রোগী আসায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ তৈরি হয়েছে। বেড সংকটে আহত রোগীদের ফ্লোরে শুয়ে ও বসে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনে একজন আহত রোগী ফ্লোরে শুয়ে আছেন। তার পাশেই বসে ছিলেন আরও একজন আহত রোগী। বেড না পাওয়ায় তারা ফ্লোরেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় জরুরি বিভাগে আরও কয়েকজন আহত রোগী চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
হাসপাতাল সূত্র ও সরেজমিনে দেখা যায়, একসঙ্গে ১০ থেকে ১২ জন সংঘর্ষে আহত হয়ে জরুরি বিভাগে আসায় চিকিৎসাসেবায় চাপ তৈরি হয়। এ সময় একজন চিকিৎসক, একজন নার্স (ব্রাদার) ও একজন ওয়ার্ডবয় আহত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যস্ত ছিলেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে তাদের হিমশিম খেতে দেখা যায়।
আহত রোগী জীবন বলেন, “আমি এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। কিন্তু আমাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। আমার মাথা থেকে রক্ত ঝরছে।”
আরাধন নামে আরেক রোগী বলেন, “আমিও এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি, কিন্তু আমাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।”
রফিকুল ইসলাম নামে এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, “জরুরি বিভাগে ওয়ার্ডবয় দিয়ে রোগীদের কাজ করা হচ্ছে।”
এদিকে কয়েকজন রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, সামান্য বেশি জটিলতা দেখা দিলেই রোগীদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, ধর্মপাশা থেকে ময়মনসিংহে রোগী নিয়ে যেতে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বহন করা কঠিন।
তাদের দাবি, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সুবিধা, জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে অনেক রোগীকেই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত রোগীদের ড্রেসিং ও সেলাই দেওয়ার কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ডবয় রোগীর চাপের মধ্যেও এসব সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। গুরুতর আহত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।
জরুরি বিভাগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. সুবীর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাকে অফিসকক্ষে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রোগীর চাপ, বেড সংকট, জনবল স্বল্পতা ও চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আহত রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জরুরি মুহূর্তে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।