সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীধরপাশা গ্রামের নোয়াপাড়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২ থেকে ৩ শতাধিক মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটিতে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই কাদা ও ময়লায় চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষে আর কেউ খোঁজ নেন না।
স্থানীয়রা জানান, মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় শ্রীধরপাশা গ্রামের জাবেদ কোরেশীর ছোট ভাই, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী হামজা কোরেশী নিজ অর্থায়নে সড়কটি উঁচু করে সংস্কার করে দেন। তবে সড়কটি পাকা না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে আবারও কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচল কষ্টকর হয়ে ওঠে।
মোহাম্মদগঞ্জ বাজারের লেডিস টেইলার্স অ্যান্ড থান বিতান-এর স্বত্বাধিকারী মাস্টার আমির হামজা বলেন, “জন্ম থেকেই এই এলাকায় আছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই সড়কের স্থায়ী উন্নয়ন হতে দেখিনি। বৃষ্টির সময় চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। ভোটের সময় সবাই বাড়িতে আসেন, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কাউকে পাওয়া যায় না।”
স্থানীয় বাসিন্দা জাহানারা বলেন, “শুনেছি সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ এলাকায় উন্নয়ন করছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেছেন, এই সড়কটি পাকাকরণের জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।”
আরেক বাসিন্দা মুনসুর ডালি বলেন, “প্রবাসী হামজা কোরেশীর অর্থায়নে সড়কটি কিছুটা উঁচু করা হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী উন্নয়ন না হওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ কমেনি। আমাদের সমস্যার কথা দেখার যেন কেউ নেই।”
পথচারী সানজিদ হোসেন বলেন, “এই সড়ক দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শান্তিগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষও চলাচল করেন। তবুও সড়কটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”
এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।