সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ‘আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, পিপিএম।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) আয়েশা আক্তার।
এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পাঁচ শতাধিক নাগরিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, জনবান্ধব পুলিশিং, গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে পেশাদার, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অপরাধ প্রতিরোধ, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
এ সময় অতিথিদের কাছ থেকে আইন-শৃঙ্খলা ও পুলিশি সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন গ্রহণ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে সেসব প্রশ্নের আইনসম্মত ব্যাখ্যা ও উত্তর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক উন্মুক্ত কুইজের আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার এবং অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।