সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ‘কৃষক স্মার্ট’ কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ এবং ‘কৃষক কার্ড থাকলে হাতে, সেবা পাবেন সাথে সাথে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ১৬ জুলাই থেকে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে, যা চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত।
প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক স্মার্ট কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে এই স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে শাল্লা উপজেলায়ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্মার্ট কৃষক কার্ডধারীরা নগদ সহায়তা, কৃষি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ ও কৃষি উপকরণ, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, কৃষি প্রশিক্ষণ, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিপণন, আবহাওয়ার তথ্য, বাজারদর এবং ফসলের রোগবালাই বিষয়ে পরামর্শসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা সহজে পাবেন।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বাহাড়া ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের কার্যক্রম শেষ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব কৃষককে এই স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় বলেন, স্মার্ট কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যা একজন কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। তিনি জানান, পুরোনো কার্ডধারীদের পাশাপাশি বর্গাচাষি, নতুন কৃষক এবং মৎস্যচাষিরাও এ কর্মসূচির আওতায় আসবেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কৃষকদের সাড়া তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এই কার্ড ছাড়া সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য তিনি কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান।