মোবাইল ফোননির্ভর প্রজন্মের মধ্যে বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ‘বই পড়া উৎসব-২০২৬’। উপজেলা প্রশাসন, শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উন্মুক্ত বিভাগে সব বয়সী বইপ্রেমীরাও অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের সভাপতি ও নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী এবং নটরডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ফাদার প্রশান্ত নিকোলাস ডি'ক্রুজ।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের উৎসবে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক/স্নাতকোত্তর এবং উন্মুক্ত বিভাগ মিলিয়ে ২৫ হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎসবটি চারটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘ক’ বিভাগে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি, ‘খ’ বিভাগে নবম ও দশম শ্রেণি, ‘গ’ বিভাগে একাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং ‘ঘ’ বিভাগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে শ্রীমঙ্গলের যেকোনো বয়সী বইপ্রেমীরা অংশ নিতে পারবেন।
প্রতিযোগিতা ‘মুকুল’, ‘ফুল’ ও ‘ফল’—এই তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ধাপে অংশগ্রহণকারীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে নির্ধারিত গল্প, উপন্যাস ও অন্যান্য গ্রন্থ পাঠ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। প্রতিটি ধাপে উত্তীর্ণ হলেই পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ মিলবে।
প্রথম ধাপ ‘মুকুল’-এর জন্য বিভিন্ন শ্রেণির উপযোগী করে মোট ১৫টি বইয়ের তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩৮টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী নির্ধারিত বই পাঠ শেষে আগামী ৩ আগস্ট লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবে।
পরবর্তী ধাপ ‘ফুল’-এ প্রতিযোগীরা নতুন একটি বই পড়ে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। সেখান থেকে নির্বাচিতরা চূড়ান্ত ধাপ ‘ফল’-এ উপজেলা পর্যায়ে আরও একটি নতুন বইয়ের ওপর মূল্যায়নে অংশ নেবেন। অর্থাৎ একজন প্রতিযোগীকে পুরো উৎসবজুড়ে তিনটি পৃথক বই পাঠ করতে হবে।
প্রায় দেড় মাসব্যাপী চলা এ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হলো উন্মুক্ত বিভাগ, যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা শ্রীমঙ্গলের যেকোনো বয়সী বইপ্রেমী অংশ নিতে পারবেন।
আয়োজকদের মতে, ডিজিটাল যুগে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তির বিকাশ এবং বইকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
উৎসব বাস্তবায়নে সমন্বয় সহযোগী হিসেবে রয়েছে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে উত্তরণ, শ্রীমঙ্গল।