টানা মুষলধারে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, তলিয়ে গেছে সড়ক, বাড়িঘরে ঢুকেছে পানি। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে অব্যাহত থাকে। এ সময় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া, খাল ও জলাশয়ের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের লোকালয়ে প্রবেশ করে। ফলে কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক জলাবদ্ধতা ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবার দুপুরে রান্না করতে পারেনি। নিম্নাঞ্চলের বহু মানুষ কর্মস্থলেও যেতে পারেননি। বিশেষ করে দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
একজন বাসিন্দা বলেন, "বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।"
এদিকে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরও ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও ফ্ল্যাশ ফ্লাড পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।