হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় খরিফ-২/২০২৬-২৭ উৎপাদন মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার, কৃষি উপকরণ এবং বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন ও বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে উপকারভোগী কৃষকদের হাতে এসব কৃষি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ২ হাজার ৮৫০ জন কৃষকের মাঝে ৫ কেজি করে উন্নতমানের উফশী আমন ধানের বীজ, ২ হাজার ১০০ জন কৃষকের মাঝে ৩০০ গ্রাম করে উফশী ও হাইব্রিড জাতের সবজির বীজ, ৫০ জন কৃষকের মাঝে ১ কেজি করে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ, ৩১৫ জন কৃষকের মাঝে ৫টি করে বৃক্ষের চারা এবং ৪৫ জন কৃষকের মাঝে ৫টি করে লেবুর চারা বিতরণ করা হয়।
এছাড়া উপকারভোগীদের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ ও ১৫ কেজি করে ডিএপি (DAP) সার, ১০ ও ১৫ কেজি করে এমওপি (MOP) সার এবং ২৫ ও ৩০ কেজি করে জৈব সার বিতরণ করা হয়। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারার পাশাপাশি চারা পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় বাঁশের খুঁটিও দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি), হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক মো. আকতারুজ্জামান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মীর সিরাজ, সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক তালুকদার, রাণীগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম শাফিকুর রহমান, চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ ফারুক উদ্দিন চৌধুরী, কৃষক হৃদয় মিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আকতারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বিতরণকৃত কৃষি উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার বিকাশে সরকারের প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। ভবিষ্যতেও কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগী কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি নিয়মিত অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।