বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

শাহজালাল মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগ এখন সিসি ক্যামেরার আওতায়

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবার দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের নির্দেশনায় এই নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়।

মাজার কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত বৃহস্পতিবার মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দানবাক্স ও ডেগ পাহারার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। আজ সেই নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা যুক্ত করা হলো।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে মাজারের দান সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের আওতায় আসবে। এতে মাজারে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দানের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং অর্থ ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অস্পষ্টতা দূর হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) অবিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর কোনো সরাসরি উত্তরাধিকার নেই। ফলে মাজারে আসা দান মূলত পাবলিক প্রপার্টি বা জনগণের সম্পদ। দীর্ঘদিন ধরে এখানে দানের টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহারের একটি পরম্পরা চালু ছিল। আমরা সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, দানের কোনো টাকা সরকার নেবে না। যাবতীয় অর্থ মাজার, সংলগ্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। এ লক্ষ্যে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে খাদেম ও মাজার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি উন্নয়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্ট ও খাদেমদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা এই উদ্যোগকে ‘৭০০ বছরের ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ’ এবং ‘জোরজবরদস্তি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ডেগ সিলগালা করার পর মাজার প্রাঙ্গণে একদল অনুসারী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, ১২ জুন জেলা প্রশাসক মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয় ব্যবস্থার সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এছাড়া হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার এলাকাতেও মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাজারের ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে।

এই সম্পর্কিত আরো