শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

সাদা পাথর হরিলুটের সিন্ডিকেট ভাঙতে মাঠে প্রশাসন: ৮ মিলে অভিযান, বিপুল পাথর জব্দ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ পর্যটন এলাকার ঐতিহ্যবাহী সাদা পাথর লুট ও অবৈধ ক্রাশিংয়ের বিরুদ্ধে ফের কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে উপজেলার কলাবাড়ি এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে অন্তত ৮টি ক্রাশার মিলের যন্ত্রপাতি ভাঙচুর এবং প্রায় ৯ হাজার ঘনফুট অবৈধ সাদা পাথর জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পর্যটন শিল্পের আকর্ষণ নষ্ট করে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাদা পাথর লুট করে আসছিল। একসময় লুট বন্ধ থাকলেও গত মাস চারেক ধরে কলাবাড়ি এলাকার বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পুনরায় অধিক মুনাফার লোভে পাথর ক্রয় করে ক্রাশিং ও পাচার শুরু করে।

অভিযানে হাবিব স্টোন ক্রাশার, আবির স্টোন ক্রাশার ও জালাল স্টোন ক্রাশারসহ অন্তত ৮টি মিলে অভিযান চালানো হয়। এর আগেও হাবিব স্টোন ক্রাশারে অভিযান চালিয়ে পাথর জব্দ করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সেই জব্দকৃত পাথর রাতের আঁধারে হরিলুট হওয়ার অভিযোগ ওঠে মিল মালিক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে। এই ধারাবাহিক অপরাধের কারণেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া সাড়া দেননি। তবে অভিযানে অংশ নেওয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাদা পাথরের অস্তিত্ব পাওয়ায় বেশ কয়েকটি ক্রাশার মিলের ক্রাশিং যন্ত্রাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ৯ হাজার ঘনফুট সাদা পাথর জব্দ করা হয়েছে। ভোলাগঞ্জ পর্যটন স্পটের পাথর লুটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত বছর সাদা পাথর লুট নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং জড়িত অনেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক এই কঠোর পদক্ষেপ স্থানীয় সচেতন মহলে সাধুবাদ পেয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো