সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। তৃতীয় দিন ২৩৮ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৩৫ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। ফলে বড় জয়ে সিরিজ শুরু করলো স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসের মতো পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ছিল নড়বড়ে। দ্বিতীয় ওভারে অভিজ্ঞ ওপেনার ইমাম-উল-হককে শূন্য রানে ফেরান জোফরা আর্চার।
পরের ওভারেই আবার আঘাত হানেন আর্চার। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস। ৯ রান করে তিনি ফিরলে মাত্র ১৩ রানেই ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ইনফর্ম আবদুল্লাহ শফিক অধিনায়ক শান মাসুদের সঙ্গে জুটি গড়েন। তৃতীয় উইকেটে দুজন যোগ করেন ৩৮ রান। তবে ১৪তম ওভারে রবিনসনের বলে শফিক ১৫ রান করে আউট হলে ভাঙে সেই জুটি।
বিকেলের সেশনে মাত্র ৭৬ রান যোগ করতেই বাকি সাত উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় সফরকারীরা।
উইকেটকিপার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে দলের সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন। ৩৯ বলের ইনিংসে তিনি চারটি বাউন্ডারি হাঁকান।
রিজওয়ান ছাড়া পাকিস্তানের হয়ে দুই অঙ্কের রান করেন শুধু শান মাসুদ, আবদুল্লাহ শফিক ও সৌদ শাকিল। তাদের রান যথাক্রমে ২৯, ১৫ ও ১৪।
ইংল্যান্ডের বোলিংয়ে তিন পেসার ওলি রবিনসন, জোফরা আর্চার ও জশ টাং তিনটি করে উইকেট নেন। গাস অ্যাটকিনসন শিকার করেন একটি উইকেট।
এর আগে তৃতীয় দিনের শুরুতে ৮ উইকেটে ৩৬৪ রান নিয়ে প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। আরও ৪৫ রান যোগ করে ৮৯.৫ ওভারে ৪০৯ রানে অলআউট হয় তারা।
জেমি স্মিথ ও জোফরা আর্চার শুরুতে পাকিস্তানকে হতাশ করেন। দুজনের ২৮ রানের জুটিতে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪০০ ছাড়িয়ে যায় এবং লিডও আরও বাড়ে।
শেষ পর্যন্ত খুররম শাহজাদ জুটি ভাঙেন। ৫২ বলে ২৫ রান করা স্মিথকে ফেরান তিনি। তার ইনিংসে ছিল দুটি বাউন্ডারি।
এরপর আর্চারের সঙ্গে যোগ দেন জশ টাং। মোহাম্মদ আব্বাসকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ইংল্যান্ডকে ৪০০ পেরিয়ে নিয়ে যান টাং। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ১০ বলে ৮ রান করে শাহজাদের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন টাং।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আলি উসমান। ২৪ ওভারে ৯৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের দেখা পান তিনি। খুররম শাহজাদ নেন তিন উইকেট। মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলি শিকার করেন একটি করে উইকেট।