সরকারি দপ্তরের পদ-পদবির অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে সিলেটে গড়ে উঠেছে পাসপোর্টের এক শক্তিশালী ও অধরা সিন্ডিকেট। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে কর্মরত বলে পরিচয়দানকারী মিজানুর রহমান নামক এক ব্যক্তি এই অবৈধ চক্রের মূল হোতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্টের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য চালিয়ে আসছেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে এই সিন্ডিকেটটি পাসপোর্টের দালালির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাধারণ গ্রাহকদের চোখে ধুলো দিতে এবং প্রশাসনিক নজরদারি এড়াতে মিজান তার এই ‘চ্যানেল বাণিজ্য’ পরিচালনা করেন বিশেষ ই-মেইল কোডের মাধ্যমে। গ্রাহক বা ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের পর নির্দিষ্ট কোডের মাধ্যমে ফাইল প্রসেস করা হয়।
এই অবৈধ কার্যক্রমে সরাসরি নগদ টাকা লেনদেনের বদলে ব্যবহার করা হয় মোবাইল ব্যাংকিং (বিশেষ করে বিকাশ) এবং বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। গ্রাহকদের কাছ থেকে পাসপোর্টের ধরন অনুযায়ী চ্যানেল ফি নির্ধারণ করা হয়, ৫ বছর মেিয়াদি পাসপোর্টের জন্য ১২০০ টাকা অতিরিক্ত ফি/চ্যানেল খরচ ও ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য ১৮০০ টাকা অতিরিক্ত ফি/চ্যানেল খরচ আদায় করে বলেন অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সিলেটে সক্রিয় ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর একটি বড় অংশের যোগসাজশ রয়েছে এই চক্রের সঙ্গে। অনুসন্ধানী তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ট্রাভেল এজেন্সির অবৈধ বা শর্টকাট পাসপোর্টের কাজ মিজানের মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়। চক্রটির পরিধি এতই বিস্তৃত যে, প্রতিদিন বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি পাসপোর্টের চ্যানেল তার কাছে আসে এবং তিনি তা চতুরতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মেজাজ হারিয়ে বলেন, আপনি যে সাংবাদিক সেটার প্রমাণ কী? বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অন্যদিকে, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক বক্তব্যের জন্য সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদা এবং সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
দ্বিতীয় পর্বে পড়ুন
পর্ব ২: নাম-বয়স সংশোধনের ‘মহাওষুধ’ ও ইউরোপে আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট জালিয়াতি