সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
রাজনীতি

হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, বিরোধী দলও সেই ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা আবার সেই আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, বিরোধী দলও সেই ভাষায় কথা বলছে। করতে দেব না, চলতে দেব না, শেষ করতে দেব না, পারবে না। এসব বলতে শুরু করেছে তারা।

রোববার (৯ জুলাই) দুপুরে রংপুরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডির আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় ২৫টি দুস্থ পরিবারের চা-ঘর হস্তান্তরের পর প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হয়েছে তো মাত্র চার/পাঁচ মাস। এ কয়েক মাসেই তো অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। বহু পরিবর্তন। একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলা শুরু হয়েছে। একটা বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কাজটা তো এত সহজ না। কারো হাতে আলাদিনের চেরাগ তো নাই। অথচ তাদের ভাষায়, এ মুহূর্তে হতেই হবে।

দেশের জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানি নিয়ে আমাদের সমস্যা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ১৫ বছরে নতুন তেল-গ্যাসের খনি আবিষ্কারের জন্য কোনো চেষ্টা করেনি। গ্যাস-তেল অনুসন্ধানও হয়নি। আমাদের একটি প্রতিষ্ঠান আছে- বাপেক্স। এ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান ও কূপ খননের কাজ করা হয়। কিন্তু আগের সরকার বাপেক্সকে প্রায় পঙ্গু করে রেখেছিল। আমরা সেটিকে আবার চালু করেছি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। তারা এখন আসছে। আমাদের তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে জাহাজে করে আমদানি করতে হয়। এতে প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।

তিনি বলেন, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে আমাদের প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যেও একদিনের জন্যও আপনারা তেল বা গ্যাস থেকে বঞ্চিত হননি। সরবরাহ কমেছে। আগে যেখানে ১০ পাওয়া যেত, এখন হয়তো চার বা তিন পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেটাও আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই সমস্যারও সমাধান হবে।

আমদানি ব্যয় বাড়ায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, যেসব পণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলোর দাম বাড়ার অন্যতম কারণ আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া। জাহাজের ভাড়াও বেড়েছে। একটি জিনিসের দাম বাড়লে এর প্রভাব অন্য অনেক পণ্যের ওপর পড়ে। ফলে সামগ্রিকভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। এ বিষয়গুলো আমাদের বুঝতে হবে। না বুঝলে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না।

এই সম্পর্কিত আরো