শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

উন্নয়নের বদলে কাদার ভাগাড়:

বিয়ানীবাজারে সড়কের কাজ ফেলে রেখে উধাও ঠিকাদার

বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগার কথা থাকলেও এখন তা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়দের জন্য। একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ মাঝপথে ফেলে রেখে গত ছয় মাস ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যাওয়ায় শালেস্বর, ঘড়ুয়া, চারাবই, পাতন ও দেউলগ্রাম—এই পাঁচ গ্রামের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ এখন গৃহবন্দী অবস্থার শিকার।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে শেওলা ইউনিয়নের চারাবই গ্রামের ১.১ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দের এই কাজটি পায় ‘মেসার্স তানিম এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সড়কের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পিচ ও ইট তুলে ফেলার পর মাটি খুঁড়ে এমন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে যা দেখতে অনেকটা চাষা জমির মতো। গভীর গর্ত আর হাঁটু সমান থকথকে কাদায় একাকার পুরো পথ। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই কাদা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলের উপায়ও নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়েও অন্তত যাতায়াত করা যেত। এখন উন্নয়নের নামে আমাদের পথে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক দেলোয়ার হোসেনের কণ্ঠে ঝরে পড়ে অসহায়ত্ব। তিনি বলেন, রাস্তা খুঁড়ে রাখার পর ঠিকাদার লাপাত্তা। এখন চাকা তো চলেই না, পা ফেলার জায়গাও নেই। সারা দিন শুধু কাদা আর কাদা।

​বিয়ানীবাজার উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং সশরীরে ডেকে তাগাদা দেওয়া হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করছে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার তানিম আহমদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদারের এমন পলায়নবৃত্তি ও প্রশাসনের ধীরগতির কারণে হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে এবং অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসী সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এই সম্পর্কিত আরো